নাপিতকে নাপিতের কাজ করতে দিন – দৈনিক ডোনেট বাংলাদেশ

নাপিতকে নাপিতের কাজ করতে দিন

সম্পাদকীয়
আপডেটঃ ১১ অক্টোবর, ২০২১ | ৭:০৭ 11 ভিউ
-- ডোনেট বাংলাদেশ

শিক্ষক ছাত্রদের মাথায় ঘ্যাচ ঘ্যাচ কাঁচি চালাচ্ছেন। কাঁচি হাতে ছাত্রদের চুল কেটে তাদের নিয়মানুবর্তিতার শিক্ষা দেওয়া কোনো কাজের কথা নয়। এ ঘটনা বুঝিয়ে দেয়, ছাত্র-শিক্ষক সম্পর্ক এখনো স্বাভাবিক সম্পর্ক হয়ে ওঠেনি। মানসিক এই দূরত্ব শিক্ষাদান ও শিক্ষা গ্রহণ প্রক্রিয়ায়ও প্রভাব ফেলে কি না, তা নিয়ে গবেষকেরা ভেবে দেখতে পারেন। যেকোনো প্রতিষ্ঠানই কিছু নিয়ম-নীতি তৈরি করে, যা মেনে চলতে হয়। সে প্রতিষ্ঠানের জন্য সেই নিয়ম-নীতি অবশ্যপালনীয়। এ

কথা মনে রেখে এগোলে দেখা যাবে, স্কুল-কলেজ তথা বিদ্যাপীঠেরও কিছু নিয়মকানুন আছে। যেমন কোনো কোনো স্কুল-কলেজে ইউনিফর্ম বাধ্যতামূলক। সেখানে ইউনিফর্ম পরে যাওয়াই নিয়ম। যদি স্কুলে নির্দেশ থাকে, পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতার জন্য চুল ছোট করে আসতে হবে, তাহলে সেটাই সেখানকার রীতি। যদি এমন কোনো নিয়ম থাকে, যা আদতে শিক্ষার মূল সুরের ব্যাঘাত ঘটায়, তাহলে সে নিয়ম পরিবর্তন করাও জরুরি কাজ। কথাগুলো বলা হলো এই কারণে যে, শিক্ষার্থীজীবনের অভিজ্ঞতা থেকে

সবাই জানে, ওই বয়সে নিয়ম ভাঙার একটা প্রবণতা তৈরি হয়। ফলে যা কিছু স্কুলের নিয়ম, তা ভাঙার আনন্দ ভর করে তাদের কাজে। স্কুল পালিয়ে সিনেমা হল অথবা খেলার মাঠে যাওয়ার ঘটনা যে কত সহস্র-কোটি শিক্ষার্থী ঘটিয়েছে, তার কি ইয়ত্তা আছে? ফলে শিক্ষক-শিক্ষার্থীর একটা অলিখিত দ্বন্দ্ব চলতেই থাকে। পড়াশোনার চাপের মধ্যে সেই প্রতিযোগিতার অনেক কিছুই মধুময় হয়, অনেক কিছুই হয়ে ওঠে তিক্ত। আমরা পরপর কিছুদিনের মধ্যে

ছাত্রদের চুল কাটা নিয়ে যে দুটি অভিজ্ঞতার সামনে দাঁড়ালাম, তা মোটেই মধুময় নয়। তারুণ্যের ধর্ম হচ্ছে ভাঙা, প্রতিষ্ঠানের ধর্ম হলো নিয়মের মধ্যে বেঁধে ফেলা। এই দ্বন্দ্ব থেকে মুক্ত হওয়া যায় না। তাই খুঁজে নিতে হয় এমন কোনো পথ, যেখানে দুজনের একটা মিলনরেখার সন্ধান মেলে। সেটা তৈরি হয় দুই পক্ষের সম্পর্ক প্রগাঢ় হলে। সেখানেই সম্ভবত সবচেয়ে বড় ফাঁকটা রয়েছে। ‘ডিসিপ্লিন’ বা ‘নিয়মানুবর্তিতা’র রচনা বমির মতো করে পরীক্ষার খাতায়

ঢেলে দিলে তো জীবনে নিয়মানুবর্তিতা আসে না, সেটা আসে অভ্যাস আর চর্চার মাধ্যমে। শিক্ষার্থীরা যে সময়টুকু শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে থাকবে, সে সময়ে প্রতিষ্ঠানের নিয়ম মানার অভ্যাস তৈরি করবে, এটাই সংগত। শিক্ষকদের দায়িত্ব, শিক্ষার্থীদের সেভাবে গড়ে তোলা এবং অবশ্যই তা ভালোবাসা ও মমত্ব দিয়ে। শিক্ষকের কার্যাবলি যদি শিক্ষার্থী মহলে সম্মান জাগাতে না পারে, তাহলে শিক্ষক হিসেবেও তিনি ব্যর্থ। চুল কাটার সংস্কৃতি বাদ দিয়ে শিক্ষার্থীদের ভালোবেসে তাদের কাছ থেকে কাজ
Notice: Undefined offset: 4 in /home/donetnews/public_html/wp-content/themes/pitwmeganews/functions.php on line 403
আদায় করুন, নাপিতকে নাপিতের কাজ করতে দিন।

দৈনিক ডোনেট বাংলাদেশ সংবিধান ও জনমতের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। তাই ধর্ম ও রাষ্ট্রবিরোধী এবং উষ্কানীমূলক কোনো বক্তব্য না করার জন্য পাঠকদের অনুরোধ করা হলো। কর্তৃপক্ষ যেকোনো ধরণের আপত্তিকর মন্তব্য মডারেশনের সর্বদা ক্ষমতা রাখেন।

ট্যাগ:

সংশ্লিষ্ট সংবাদ: