ফের ভুল তথ্য দিলে কঠোর ব্যবস্থা - দৈনিক ডোনেট বাংলাদেশ

তৃণমূল থেকে ভুল তথ্য দেওয়ায় ইউনিয়ন পরিষদ (ইউপি) নির্বাচনে মনোনয়ন নিয়ে বিব্রত ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগ। গত দুই ধাপে অনেক স্থানে বিতর্কিতদের মনোনয়ন দেওয়ায় দলের ভেতরে ও বাইরে চলছে নানা আলোচনা-সমালোচনা। দায়িত্বপ্রাপ্ত নেতারা একে অপরের ওপর দায় চাপাচ্ছেন। এমন পরিস্থিতিতে তৃতীয় ধাপের নির্বাচনে দলীয় মনোনয়ন নিয়ে সতর্ক হাইকমান্ড। এবার প্রাথমিক তালিকায় তৃণমূল থেকে ফের ভুল তথ্য দেওয়া হলে দায়ীদের বিরুদ্ধে নেওয়া হবে কঠোর সাংগঠনিক ব্যবস্থা। ইতোমধ্যে এমন বার্তা পৌঁছে দেওয়া হয়েছে। এছাড়া তৃণমূলের অভিযোগ নিয়েও এবার শুরু থেকেই সতর্ক ক্ষমতাসীনরা।

এ প্রসঙ্গে শনিবার দলের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের বলেন, স্থানীয় সরকার নির্বাচনে কোনো কোনো জেলা থেকে তথ্য গোপন করে বিতর্কিতদের নাম কেন্দ্রে

পাঠাচ্ছেন। যারা এ ধরনের কাজে জড়িত, তাদের বিরুদ্ধে কঠোর সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

এদিকে তৃতীয় ধাপের ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে দলীয় প্রার্থী বাছাইয়ের কাজ ইতোমধ্যেই শুরু করেছে ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগ। এক হাজার সাতটি ইউনিয়নে দলের আগ্রহী প্রার্থীদের কাছে শনিবার থেকে মনোনয়ন ফর্ম বিক্রি করা হয়েছে। চলবে বুধবার (২০ অক্টোবর) পর্যন্ত। পরদিন বৃহস্পতিবার (২১ অক্টোবর) থেকে দলীয় প্রার্থী চূড়ান্তে শুরু হবে মনোনয়ন বোর্ডের সভা। গণভবনে আওয়ামী লীগ সভাপতি প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সভাপতিত্বে এবার টানা চারদিনের সভায় আট বিভাগের প্রার্থী চূড়ান্ত করার পরিকল্পনা রয়েছে।

জানতে চাইলে আওয়ামী লীগের সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য কাজী জাফর উল্লাহ রোববার বিকালে বলেন, তৃতীয় ধাপে এক হাজার সাতটি ইউনিয়ন পরিষদে নির্বাচন হবে।

সেখানে ছয় থেকে সাত হাজার আবেদন (দলীয় মনোনয়নের জন্য) আসবে। সেখান থেকে চার দিনের মধ্যে প্রার্থী বাছাই করতে হবে। এতে দু-একটা ভুল থাকতেই পারে। তবে আমরা সবকিছু যাচাই-বাছাই করেই যোগ্যদের দলীয় মনোনয়ন দিয়ে থাকি। তৃণমূল থেকে ভুল তথ্য পাঠানোর বিষয়ে তিনি বলেন, এ বিষয়ে তাদের সতর্ক করা হয়েছে। তবে প্রার্থী বাছাইয়ে সময় স্বল্পতার কথা উল্লেখ করে কাজী জাফর উল্লাহ বলেন, আসলে তৃণমূলকেও তো পর্যাপ্ত সময় আমরা দিতে পারছি না। তারাও আমাদের এই সময়স্বল্পতার কথাটা বলছেন।

জানা যায়, আওয়ামী লীগের সিদ্ধান্ত ছিল সর্বনিম্ন তিনজনের নাম রেজুলেশন আকারে কেন্দ্রে পাঠাতে হবে। কিন্তু স্থানীয়ভাবে প্রভাবশালী নেতারা নিজেদের প্রার্থীদের দলীয় মনোনয়ন পাইয়ে দিতে নিচ্ছেন অসৎ

পন্থা। অনেক মনোনয়নপ্রত্যাশী কেন্দ্রে ভুল তথ্য উপস্থাপন করেন। দলের পদে না থেকেও দলীয় পদবি ব্যবহার করেন কেউ কেউ। ইউনিয়নের তথ্য উপজেলায় বা উপজেলার তথ্য জেলায় পালটে দেওয়ার অভিযোগও আছে। আবার জেলা-উপজেলা আওয়ামী লীগ সভাপতি-সাধারণ সম্পাদকের স্বাক্ষর জাল করার ঘটনাও ঘটে। একাধিক যোগ্য প্রার্থী থাকার পরও কোনো কোনো জায়গা থেকে পাঠানো হয় একক প্রার্থীর নাম।

সূত্র জানায়, তৃণমূল থেকে পাঠানো তথ্যে হয়তো একজনের সাংগঠনিক পরিচয়ে দল বা সহযোগী সংগঠনের সম্পাদকীয় পদে ছিলেন বলে উল্লেখ করা হয়েছে। কিন্তু যাচাই-বাছাই করে দেখা যায়, তিনি হয়তো কখনো সেই পদে ছিলেনই না। কারণ সাবেক পদ ব্যবহার করলে সেটা জাস্টিফাই করা কঠিন। এমন আরও নানা বিভ্রান্তিকর তথ্য

দেওয়া হয়। এছাড়া আরেকটি বড় সমস্যা হচ্ছে অনেক তথ্য লুকানো হয়। অনেকের বিরুদ্ধে নানা ধরনের অভিযোগ আছে। কিন্তু কেন্দ্রে সেগুলো দেওয়া হয় না। অল্প সময় হাতে থাকায় কেন্দ্র থেকেও এগুলো পুরোপুরি জানা সম্ভব হয় না। ফলে বিভ্রান্তিতে পড়তে হয়।

দ্বিতীয় ধাপের নির্বাচনে দলের মনোনয়নবঞ্চিত এক প্রার্থী বলেন, এলাকায় আমার জনপ্রিয়তা অনেক বেশি। এখানে নির্বাচন উন্মুক্ত রাখলেই সেই প্রমাণ দিতে পারব। কিন্তু তৃণমূলের রেজুলেশনে আমার নামই পাঠানো হয়নি। প্রভাবশালী একটি মহল আমাকে মনোনয়নবঞ্চিত করেছে। এখন আমি নির্বাচন করলে তো বিদ্রোহী হয়ে যাব। আমি নিজেও দলের সিদ্ধান্তের বাইরে যেতে চাই না। কিন্তু আমি চাই এগুলো নিয়ে তদন্ত হোক, ব্যবস্থা নেওয়া হোক।

এছাড়া দ্বিতীয় ধাপের

নির্বাচনে দলীয় মনোনয়নের আগে এবং মনোনয়ন পাওয়ার পরে অনেক অভিযোগ জমা পড়ে আওয়ামী লীগ সভাপতির ধানমন্ডির রাজনৈতিক কার্যালয়ে। মনোনয়ন বোর্ডের বৈঠকে এসব অভিযোগ যাচাই-বাছাই করা হয়। এছাড়া মনোনয়ন চূড়ান্ত করার পরে পাওয়া অভিযোগগুলোও গুরুত্বের সঙ্গে যাচাই-বাছাই করে দলটি। এসব অভিযোগে অন্তত ১৫ ইউপি দলীয় প্রার্থী পরিবর্তনও করে আওয়ামী লীগ। তবে আওয়ামী লীগের সংশ্লিষ্ট নেতারা বলছেন, যত পরিমাণ অভিযোগ এসেছে, এর তুলনায় সত্যতা পাওয়া গেছে অনেক কম। বঞ্চিত হয়ে মনোনয়নপ্রাপ্ত প্রার্থীর বিরুদ্ধে ভিত্তিহীন অভিযোগ দিয়েছেন অনেকেই।

সূত্র জানায়, তৃতীয় ধাপের প্রার্থী বাছাইয়ের আগে তৃণমূলের সব অভিযোগ আমলে নেওয়া হচ্ছে না। বিশেষ করে যেসব অভিযোগের সঙ্গে যথাযথ তথ্যপ্রমাণের কাগজপত্র নেই, সেগুলো জমা নেওয়া

হচ্ছে না। আবার জমা নেওয়া অভিযোগগুলো দপ্তর সেল থেকে প্রাথমিক যাচাই-বাছাই করা হচ্ছে। যে অভিযোগগুলোর সত্যতা পাওয়া যাচ্ছে, সেগুলো প্রতিবেদন আকারে জমা নেওয়া অভিযোগপত্রসহ মনোনয়ন বোর্ডের কাছে পাঠানো হবে। মনোনয়ন বোর্ড আরও যাচাই-বাছাই শেষে অন্যান্য রিপোর্ট মিলিয়ে চূড়ান্ত করবে নৌকার প্রার্থী।

তৃণমূল থেকে ভুল তথ্য দেওয়ায় ইউনিয়ন পরিষদ (ইউপি) নির্বাচনে মনোনয়ন নিয়ে বিব্রত ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগ। গত দুই ধাপে অনেক স্থানে বিতর্কিতদের মনোনয়ন দেওয়ায় দলের ভেতরে ও বাইরে চলছে নানা আলোচনা-সমালোচনা। দায়িত্বপ্রাপ্ত নেতারা একে অপরের ওপর দায় চাপাচ্ছেন। এমন পরিস্থিতিতে তৃতীয় ধাপের নির্বাচনে দলীয় মনোনয়ন নিয়ে সতর্ক হাইকমান্ড। এবার প্রাথমিক তালিকায় তৃণমূল থেকে ফের ভুল তথ্য দেওয়া হলে দায়ীদের বিরুদ্ধে নেওয়া হবে কঠোর সাংগঠনিক ব্যবস্থা। ইতোমধ্যে এমন বার্তা পৌঁছে দেওয়া হয়েছে। এছাড়া তৃণমূলের অভিযোগ নিয়েও এবার শুরু থেকেই সতর্ক ক্ষমতাসীনরা।

এ প্রসঙ্গে শনিবার দলের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের বলেন, স্থানীয় সরকার নির্বাচনে কোনো কোনো জেলা থেকে তথ্য গোপন করে বিতর্কিতদের নাম কেন্দ্রে

পাঠাচ্ছেন। যারা এ ধরনের কাজে জড়িত, তাদের বিরুদ্ধে কঠোর সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

এদিকে তৃতীয় ধাপের ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে দলীয় প্রার্থী বাছাইয়ের কাজ ইতোমধ্যেই শুরু করেছে ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগ। এক হাজার সাতটি ইউনিয়নে দলের আগ্রহী প্রার্থীদের কাছে শনিবার থেকে মনোনয়ন ফর্ম বিক্রি করা হয়েছে। চলবে বুধবার (২০ অক্টোবর) পর্যন্ত। পরদিন বৃহস্পতিবার (২১ অক্টোবর) থেকে দলীয় প্রার্থী চূড়ান্তে শুরু হবে মনোনয়ন বোর্ডের সভা। গণভবনে আওয়ামী লীগ সভাপতি প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সভাপতিত্বে এবার টানা চারদিনের সভায় আট বিভাগের প্রার্থী চূড়ান্ত করার পরিকল্পনা রয়েছে।

জানতে চাইলে আওয়ামী লীগের সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য কাজী জাফর উল্লাহ রোববার বিকালে বলেন, তৃতীয় ধাপে এক হাজার সাতটি ইউনিয়ন পরিষদে নির্বাচন হবে।

সেখানে ছয় থেকে সাত হাজার আবেদন (দলীয় মনোনয়নের জন্য) আসবে। সেখান থেকে চার দিনের মধ্যে প্রার্থী বাছাই করতে হবে। এতে দু-একটা ভুল থাকতেই পারে। তবে আমরা সবকিছু যাচাই-বাছাই করেই যোগ্যদের দলীয় মনোনয়ন দিয়ে থাকি। তৃণমূল থেকে ভুল তথ্য পাঠানোর বিষয়ে তিনি বলেন, এ বিষয়ে তাদের সতর্ক করা হয়েছে। তবে প্রার্থী বাছাইয়ে সময় স্বল্পতার কথা উল্লেখ করে কাজী জাফর উল্লাহ বলেন, আসলে তৃণমূলকেও তো পর্যাপ্ত সময় আমরা দিতে পারছি না। তারাও আমাদের এই সময়স্বল্পতার কথাটা বলছেন।

জানা যায়, আওয়ামী লীগের সিদ্ধান্ত ছিল সর্বনিম্ন তিনজনের নাম রেজুলেশন আকারে কেন্দ্রে পাঠাতে হবে। কিন্তু স্থানীয়ভাবে প্রভাবশালী নেতারা নিজেদের প্রার্থীদের দলীয় মনোনয়ন পাইয়ে দিতে নিচ্ছেন অসৎ

পন্থা। অনেক মনোনয়নপ্রত্যাশী কেন্দ্রে ভুল তথ্য উপস্থাপন করেন। দলের পদে না থেকেও দলীয় পদবি ব্যবহার করেন কেউ কেউ। ইউনিয়নের তথ্য উপজেলায় বা উপজেলার তথ্য জেলায় পালটে দেওয়ার অভিযোগও আছে। আবার জেলা-উপজেলা আওয়ামী লীগ সভাপতি-সাধারণ সম্পাদকের স্বাক্ষর জাল করার ঘটনাও ঘটে। একাধিক যোগ্য প্রার্থী থাকার পরও কোনো কোনো জায়গা থেকে পাঠানো হয় একক প্রার্থীর নাম।

সূত্র জানায়, তৃণমূল থেকে পাঠানো তথ্যে হয়তো একজনের সাংগঠনিক পরিচয়ে দল বা সহযোগী সংগঠনের সম্পাদকীয় পদে ছিলেন বলে উল্লেখ করা হয়েছে। কিন্তু যাচাই-বাছাই করে দেখা যায়, তিনি হয়তো কখনো সেই পদে ছিলেনই না। কারণ সাবেক পদ ব্যবহার করলে সেটা জাস্টিফাই করা কঠিন। এমন আরও নানা বিভ্রান্তিকর তথ্য

দেওয়া হয়। এছাড়া আরেকটি বড় সমস্যা হচ্ছে অনেক তথ্য লুকানো হয়। অনেকের বিরুদ্ধে নানা ধরনের অভিযোগ আছে। কিন্তু কেন্দ্রে সেগুলো দেওয়া হয় না। অল্প সময় হাতে থাকায় কেন্দ্র থেকেও এগুলো পুরোপুরি জানা সম্ভব হয় না। ফলে বিভ্রান্তিতে পড়তে হয়।

দ্বিতীয় ধাপের নির্বাচনে দলের মনোনয়নবঞ্চিত এক প্রার্থী বলেন, এলাকায় আমার জনপ্রিয়তা অনেক বেশি। এখানে নির্বাচন উন্মুক্ত রাখলেই সেই প্রমাণ দিতে পারব। কিন্তু তৃণমূলের রেজুলেশনে আমার নামই পাঠানো হয়নি। প্রভাবশালী একটি মহল আমাকে মনোনয়নবঞ্চিত করেছে। এখন আমি নির্বাচন করলে তো বিদ্রোহী হয়ে যাব। আমি নিজেও দলের সিদ্ধান্তের বাইরে যেতে চাই না। কিন্তু আমি চাই এগুলো নিয়ে তদন্ত হোক, ব্যবস্থা নেওয়া হোক।

এছাড়া দ্বিতীয় ধাপের

নির্বাচনে দলীয় মনোনয়নের আগে এবং মনোনয়ন পাওয়ার পরে অনেক অভিযোগ জমা পড়ে আওয়ামী লীগ সভাপতির ধানমন্ডির রাজনৈতিক কার্যালয়ে। মনোনয়ন বোর্ডের বৈঠকে এসব অভিযোগ যাচাই-বাছাই করা হয়। এছাড়া মনোনয়ন চূড়ান্ত করার পরে পাওয়া অভিযোগগুলোও গুরুত্বের সঙ্গে যাচাই-বাছাই করে দলটি। এসব অভিযোগে অন্তত ১৫ ইউপি দলীয় প্রার্থী পরিবর্তনও করে আওয়ামী লীগ। তবে আওয়ামী লীগের সংশ্লিষ্ট নেতারা বলছেন, যত পরিমাণ অভিযোগ এসেছে, এর তুলনায় সত্যতা পাওয়া গেছে অনেক কম। বঞ্চিত হয়ে মনোনয়নপ্রাপ্ত প্রার্থীর বিরুদ্ধে ভিত্তিহীন অভিযোগ দিয়েছেন অনেকেই।

সূত্র জানায়, তৃতীয় ধাপের প্রার্থী বাছাইয়ের আগে তৃণমূলের সব অভিযোগ আমলে নেওয়া হচ্ছে না। বিশেষ করে যেসব অভিযোগের সঙ্গে যথাযথ তথ্যপ্রমাণের কাগজপত্র নেই, সেগুলো জমা নেওয়া

হচ্ছে না। আবার জমা নেওয়া অভিযোগগুলো দপ্তর সেল থেকে প্রাথমিক যাচাই-বাছাই করা হচ্ছে। যে অভিযোগগুলোর সত্যতা পাওয়া যাচ্ছে, সেগুলো প্রতিবেদন আকারে জমা নেওয়া অভিযোগপত্রসহ মনোনয়ন বোর্ডের কাছে পাঠানো হবে। মনোনয়ন বোর্ড আরও যাচাই-বাছাই শেষে অন্যান্য রিপোর্ট মিলিয়ে চূড়ান্ত করবে নৌকার প্রার্থী।

ইউপিতে ৩য় ধাপের মনোনয়নে সতর্ক আ.লীগ

ফের ভুল তথ্য দিলে কঠোর ব্যবস্থা

মনোনয়ন বোর্ডের সভা শুরু বৃহস্পতিবার * যোগ্য প্রার্থী থাকার পরও কোনো কোনো জায়গা থেকে আসে একক প্রার্থীর নাম

ডেস্ক নিউজ
আপডেটঃ ১৯ অক্টোবর, ২০২১ | ৮:২৮ 33 ভিউ

তৃণমূল থেকে ভুল তথ্য দেওয়ায় ইউনিয়ন পরিষদ (ইউপি) নির্বাচনে মনোনয়ন নিয়ে বিব্রত ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগ। গত দুই ধাপে অনেক স্থানে বিতর্কিতদের মনোনয়ন দেওয়ায় দলের ভেতরে ও বাইরে চলছে নানা আলোচনা-সমালোচনা। দায়িত্বপ্রাপ্ত নেতারা একে অপরের ওপর দায় চাপাচ্ছেন। এমন পরিস্থিতিতে তৃতীয় ধাপের নির্বাচনে দলীয় মনোনয়ন নিয়ে সতর্ক হাইকমান্ড। এবার প্রাথমিক তালিকায় তৃণমূল থেকে ফের ভুল তথ্য দেওয়া হলে দায়ীদের বিরুদ্ধে নেওয়া হবে কঠোর সাংগঠনিক ব্যবস্থা। ইতোমধ্যে এমন বার্তা পৌঁছে দেওয়া হয়েছে। এছাড়া তৃণমূলের অভিযোগ নিয়েও এবার শুরু থেকেই সতর্ক ক্ষমতাসীনরা। এ প্রসঙ্গে শনিবার দলের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের বলেন, স্থানীয় সরকার নির্বাচনে কোনো কোনো জেলা থেকে তথ্য গোপন করে বিতর্কিতদের নাম কেন্দ্রে

পাঠাচ্ছেন। যারা এ ধরনের কাজে জড়িত, তাদের বিরুদ্ধে কঠোর সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেওয়া হবে। এদিকে তৃতীয় ধাপের ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে দলীয় প্রার্থী বাছাইয়ের কাজ ইতোমধ্যেই শুরু করেছে ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগ। এক হাজার সাতটি ইউনিয়নে দলের আগ্রহী প্রার্থীদের কাছে শনিবার থেকে মনোনয়ন ফর্ম বিক্রি করা হয়েছে। চলবে বুধবার (২০ অক্টোবর) পর্যন্ত। পরদিন বৃহস্পতিবার (২১ অক্টোবর) থেকে দলীয় প্রার্থী চূড়ান্তে শুরু হবে মনোনয়ন বোর্ডের সভা। গণভবনে আওয়ামী লীগ সভাপতি প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সভাপতিত্বে এবার টানা চারদিনের সভায় আট বিভাগের প্রার্থী চূড়ান্ত করার পরিকল্পনা রয়েছে। জানতে চাইলে আওয়ামী লীগের সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য কাজী জাফর উল্লাহ রোববার বিকালে বলেন, তৃতীয় ধাপে এক হাজার সাতটি ইউনিয়ন পরিষদে নির্বাচন হবে।

সেখানে ছয় থেকে সাত হাজার আবেদন (দলীয় মনোনয়নের জন্য) আসবে। সেখান থেকে চার দিনের মধ্যে প্রার্থী বাছাই করতে হবে। এতে দু-একটা ভুল থাকতেই পারে। তবে আমরা সবকিছু যাচাই-বাছাই করেই যোগ্যদের দলীয় মনোনয়ন দিয়ে থাকি। তৃণমূল থেকে ভুল তথ্য পাঠানোর বিষয়ে তিনি বলেন, এ বিষয়ে তাদের সতর্ক করা হয়েছে। তবে প্রার্থী বাছাইয়ে সময় স্বল্পতার কথা উল্লেখ করে কাজী জাফর উল্লাহ বলেন, আসলে তৃণমূলকেও তো পর্যাপ্ত সময় আমরা দিতে পারছি না। তারাও আমাদের এই সময়স্বল্পতার কথাটা বলছেন। জানা যায়, আওয়ামী লীগের সিদ্ধান্ত ছিল সর্বনিম্ন তিনজনের নাম রেজুলেশন আকারে কেন্দ্রে পাঠাতে হবে। কিন্তু স্থানীয়ভাবে প্রভাবশালী নেতারা নিজেদের প্রার্থীদের দলীয় মনোনয়ন পাইয়ে দিতে নিচ্ছেন অসৎ

পন্থা। অনেক মনোনয়নপ্রত্যাশী কেন্দ্রে ভুল তথ্য উপস্থাপন করেন। দলের পদে না থেকেও দলীয় পদবি ব্যবহার করেন কেউ কেউ। ইউনিয়নের তথ্য উপজেলায় বা উপজেলার তথ্য জেলায় পালটে দেওয়ার অভিযোগও আছে। আবার জেলা-উপজেলা আওয়ামী লীগ সভাপতি-সাধারণ সম্পাদকের স্বাক্ষর জাল করার ঘটনাও ঘটে। একাধিক যোগ্য প্রার্থী থাকার পরও কোনো কোনো জায়গা থেকে পাঠানো হয় একক প্রার্থীর নাম। সূত্র জানায়, তৃণমূল থেকে পাঠানো তথ্যে হয়তো একজনের সাংগঠনিক পরিচয়ে দল বা সহযোগী সংগঠনের সম্পাদকীয় পদে ছিলেন বলে উল্লেখ করা হয়েছে। কিন্তু যাচাই-বাছাই করে দেখা যায়, তিনি হয়তো কখনো সেই পদে ছিলেনই না। কারণ সাবেক পদ ব্যবহার করলে সেটা জাস্টিফাই করা কঠিন। এমন আরও নানা বিভ্রান্তিকর তথ্য

দেওয়া হয়। এছাড়া আরেকটি বড় সমস্যা হচ্ছে অনেক তথ্য লুকানো হয়। অনেকের বিরুদ্ধে নানা ধরনের অভিযোগ আছে। কিন্তু কেন্দ্রে সেগুলো দেওয়া হয় না। অল্প সময় হাতে থাকায় কেন্দ্র থেকেও এগুলো পুরোপুরি জানা সম্ভব হয় না। ফলে বিভ্রান্তিতে পড়তে হয়। দ্বিতীয় ধাপের নির্বাচনে দলের মনোনয়নবঞ্চিত এক প্রার্থী বলেন, এলাকায় আমার জনপ্রিয়তা অনেক বেশি। এখানে নির্বাচন উন্মুক্ত রাখলেই সেই প্রমাণ দিতে পারব। কিন্তু তৃণমূলের রেজুলেশনে আমার নামই পাঠানো হয়নি। প্রভাবশালী একটি মহল আমাকে মনোনয়নবঞ্চিত করেছে। এখন আমি নির্বাচন করলে তো বিদ্রোহী হয়ে যাব। আমি নিজেও দলের সিদ্ধান্তের বাইরে যেতে চাই না। কিন্তু আমি চাই এগুলো নিয়ে তদন্ত হোক, ব্যবস্থা নেওয়া হোক। এছাড়া দ্বিতীয় ধাপের

নির্বাচনে দলীয় মনোনয়নের আগে এবং মনোনয়ন পাওয়ার পরে অনেক অভিযোগ জমা পড়ে আওয়ামী লীগ সভাপতির ধানমন্ডির রাজনৈতিক কার্যালয়ে। মনোনয়ন বোর্ডের বৈঠকে এসব অভিযোগ যাচাই-বাছাই করা হয়। এছাড়া মনোনয়ন চূড়ান্ত করার পরে পাওয়া অভিযোগগুলোও গুরুত্বের সঙ্গে যাচাই-বাছাই করে দলটি। এসব অভিযোগে অন্তত ১৫ ইউপি দলীয় প্রার্থী পরিবর্তনও করে আওয়ামী লীগ। তবে আওয়ামী লীগের সংশ্লিষ্ট নেতারা বলছেন, যত পরিমাণ অভিযোগ এসেছে, এর তুলনায় সত্যতা পাওয়া গেছে অনেক কম। বঞ্চিত হয়ে মনোনয়নপ্রাপ্ত প্রার্থীর বিরুদ্ধে ভিত্তিহীন অভিযোগ দিয়েছেন অনেকেই। সূত্র জানায়, তৃতীয় ধাপের প্রার্থী বাছাইয়ের আগে তৃণমূলের সব অভিযোগ আমলে নেওয়া হচ্ছে না। বিশেষ করে যেসব অভিযোগের সঙ্গে যথাযথ তথ্যপ্রমাণের কাগজপত্র নেই, সেগুলো জমা নেওয়া

হচ্ছে না। আবার জমা নেওয়া অভিযোগগুলো দপ্তর সেল থেকে প্রাথমিক যাচাই-বাছাই করা হচ্ছে। যে অভিযোগগুলোর সত্যতা পাওয়া যাচ্ছে, সেগুলো প্রতিবেদন আকারে জমা নেওয়া অভিযোগপত্রসহ মনোনয়ন বোর্ডের কাছে পাঠানো হবে। মনোনয়ন বোর্ড আরও যাচাই-বাছাই শেষে অন্যান্য রিপোর্ট মিলিয়ে চূড়ান্ত করবে নৌকার প্রার্থী।

দৈনিক ডোনেট বাংলাদেশ সংবিধান ও জনমতের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। তাই ধর্ম ও রাষ্ট্রবিরোধী এবং উষ্কানীমূলক কোনো বক্তব্য না করার জন্য পাঠকদের অনুরোধ করা হলো। কর্তৃপক্ষ যেকোনো ধরণের আপত্তিকর মন্তব্য মডারেশনের ক্ষমতা রাখেন।

ট্যাগ:

সংশ্লিষ্ট সংবাদ: