জলবায়ু সম্মেলন-২০২১ জলবায়ু উদ্বাস্তুদের দায়িত্ব নিতে হবে - দৈনিক ডোনেট বাংলাদেশ

জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে বাস্তুচ্যুত জনগণের দায়িত্ব বিশ্বকে ভাগ করে নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। তিনি বলেন, বাংলাদেশে এরই মধ্যে ৬০ লাখ মানুষ জলবায়ু সংকটে বাস্তুচ্যুত হয়েছে। অতিরিক্ত আরো ১১ লাখ রোহিঙ্গার ভার বইতে হচ্ছে। এ সমস্যা মোকাবেলা করা আরো কঠিন করে তুলেছে কভিড-১৯ মহামারি।

গত মঙ্গলবার স্থানীয় সময় রাত সাড়ে ৮টায় স্কটিশ পার্লামেন্টে এক ভাষণে প্রধানমন্ত্রী এ কথা বলেন।

একই দিন সন্ধ্যায় গ্লাসগোয় জাতিসংঘের জলবায়ু সম্মেলন কপ-২৬-এর ‘ফোর্জিং এ সিভিএফ-কপ-২৬ ক্লাইমেট ইমার্জেন্সি প্যাক্ট’ অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী বলেছেন, জলবায়ু অর্থায়ন ও কার্বন নিঃসরণ কমাতে উন্নত দেশগুলোর প্রতিশ্রুতি পূরণ না করাটা দুঃখজনক ও হতাশাজনক। ক্ষতিগ্রস্ত দেশগুলোকে ২০২০ থেকে ২০২৪ সাল—এই পাঁচ বছরে ৫০০

বিলিয়ন ডলার সরবরাহের পরিকল্পনা দিতে প্রধান কার্বন নিঃসরণকারী উন্নত দেশগুলোর প্রতি আহ্বান জানান তিনি।

এদিন ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী বরিস জনসনের সঙ্গেও দ্বিপক্ষীয় বৈঠক করেছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। কপ-২৬ সম্মেলনের ইউকে মিটিং রুমে এ বৈঠক হয়। বৈঠকে দ্বিপক্ষীয় ও বহুপক্ষীয় বিভিন্ন বিষয় নিয়ে আলোচনা করেন দুই প্রধানমন্ত্রী। এর আগে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ব্রিটিশ রাজসিংহাসনের উত্তরাধিকার প্রিন্স চার্লসের সঙ্গে বৈঠক করেন। এ বৈঠকেও দ্বিপক্ষীয় ও বহুপক্ষীয় বিভিন্ন বিষয়ে আলোচনা করেন তাঁরা।

kalerkanthoস্কটিশ পার্লামেন্টে পৌঁছলে স্পিকার অ্যালিসন জনস্টোন বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রীকে স্বাগত জানান। প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে ছিলেন বঙ্গবন্ধুর ছোট মেয়ে শেখ রেহানা এবং সিভিএফ দূত সায়মা ওয়াজেদ হোসেন। এ সময় স্কটিশ পার্লামেন্টের প্রথম বাংলাদেশি সদস্য ফয়সাল চৌধুরী উপস্থিত

ছিলেন।

বিশ্ব জলবায়ু সম্মেলন উপলক্ষে স্কটিশ পার্লামেন্টে আয়োজিত ‘কল ফর ক্লাইমেট প্রসপারিটি’ শীর্ষক অনুষ্ঠানে শেখ হাসিনা বলেন, জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে সমুদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতা বৃদ্ধি, নদীভাঙন, লবণাক্ততা বৃদ্ধি, বন্যা ও খরার মতো প্রাকৃতিক দুর্যোগের ঘটনায় বাস্তুচ্যুত হওয়া জলবায়ু অভিবাসীদের দায়িত্ব বিশ্বকে অবশ্যই ভাগ করে নিতে হবে। ক্ষয়ক্ষতির বিষয়টি অবশ্যই সঠিকভাবে সমাধান করতে হবে।

জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে ঝুঁকিতে থাকা দেশগুলোর জোট ক্লাইমেট ভালনারেবল ফোরাম (সিভিএফ) এবং ভালনারেবল২০ (ভি২০) সভাপতি শেখ হাসিনা তাঁর বত্তৃদ্ধতায় বলেন, কার্যকর ও পর্যাপ্ত জলবায়ু অর্থায়নই হতে পারে সমৃদ্ধি অর্জনের চাবিকাঠি। এমসিপিপি (মুজিব ক্লাইমেট প্রসপারিটি প্ল্যান) সফলভাবে বাস্তবায়নের জন্য কিছু সুপারিশ তিনি তুলে ধরেন।

শেখ হাসিনা বলেন, সবচেয়ে বেশি কার্বন নির্গমনকারী দেশগুলেকে অবশ্যই

নির্গমন কমিয়ে আনার ব্যাপকভিত্তিক জাতীয় পরিকল্পনা (এনডিসি) ঘোষণা ও বাস্তবায়ন করতে হবে। প্রশমনের ব্যাপক উদ্যোগ ছাড়া শুধু অভিযোজনের চেষ্টা জলবায়ু পরিবর্তনের বিরূপ প্রভাব বিলম্বিত করা, ঠেকানো বা পাল্টানোর জন্য যথেষ্ট নয়।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, জলবায়ু পরিবর্তনের বিরূপ প্রভাব মোকাবেলায় উন্নয়নশীল দেশগুলোকে বছরে ১০০ বিলিয়ন ডলার দেওয়ার যে অঙ্গীকার উন্নত দেশগুলো দিয়েছে, তাদের তা অবশ্যই পূরণ করতে হবে। ঝুঁকিতে থাকা দেশগুলোকে এ ক্ষেত্রে বাড়তি গুরুত্ব দিতে হবে। আর এই অর্থায়ন হতে হবে বিদ্যমান উন্নয়ন সহায়তার অতিরিক্ত। বিভিন্ন জলবায়ু তহবিলের মধ্যে সমন্বয় রাখার ওপরও জোর দেন তিনি।

শেখ হাসিনা বলেন, জলবায়ু তহবিলের অর্থ বিতরণে অভিযোজন ও প্রশমনের ক্ষেত্রে সমান বণ্টন হওয়া উচিত। আরেক প্রস্তাবে তিনি

উন্নত দেশ থেকে উন্নয়নশীল দেশগুলোতে সাশ্রয়ী মূল্যে পরিবেশবান্ধব প্রযুক্তি হস্তান্তরের কথা বলেন, যাতে জলবায়ু পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করা সম্ভব হয়।

কপ-২৬ সম্মেলনকেন্দ্রে ‘ফোর্জিং এ সিভিএফ-কপ-২৬ ক্লাইমেট ইমার্জেন্সি প্যাক্ট’ শীর্ষক সংলাপে শেখ হাসিনা বলেন, এখন পর্যন্ত প্রধান গ্রিনহাউস গ্যাস নিঃসরণকারী দেশগুলো তাদের প্রতিশ্রুত ১০০ বিলিয়ন ডলার অর্থায়ন সরবরাহ করতে ব্যর্থ হয়েছে। এটা খুবই দুঃখজনক ও হতাশাজনক।

ক্ষতিগ্রস্ত দেশগুলোকে জলবায়ু অর্থায়নে পরিকল্পনা জমা দেওয়ার আহ্বান জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘জলবায়ু পরিবর্তনে অস্তিত্ব হুমকির মুখে পড়ে আমরা সিভিএফ সদস্যরা এই কপ—এই উন্নত দেশগুলোর কাছে ২০২০ থেকে ২০২৪ পর্যন্ত পুরো পাঁচ বছরে ৫০০ বিলিয়ন ডলার সরবরাহের পরিকল্পনা দাবি করছি, যেখানে অভিযোজন ও প্রশমনে সমান সমান অর্থ সরবরাহ করতে

হবে।’

জলবায়ু পরিবর্তনের ধ্বংসাত্মক প্রভাব মোকাবেলায় ক্ষতিগ্রস্ত দেশগুলোর যথেষ্ট সক্ষমতা না থাকার কথা তুলে ধরে সিভিএফ সভাপতি শেখ হাসিনা বলেন, পর্যাপ্ত, টেকসই ও সহজ জলবায়ু অর্থায়ন ছাড়া কার্যকর কর্মপরিকল্পনা সম্ভব নয়। তিনি বলেন, ‘জলবায়ু পরিবর্তনের বিরূপ প্রভাবে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত সিভিএফ সদস্য দেশগুলো। এই সংকটের জন্য আমাদের কোনো ঐতিহাসিক ভূমিকা বা দায় না থাকা সত্ত্বেও এটি হচ্ছে।’

উন্নত দেশগুলো প্রতিশ্রুতি পূরণ না করায় ক্ষতিগ্রস্ত দেশগুলোর বিপদ বেড়ে যাচ্ছে মনে করিয়ে দিয়ে শেখ হাসিনা বলেন, সবচেয়ে ক্ষতিগ্রস্ত দেশগুলোর জলবায়ুর চ্যালেঞ্জ মোকাবেলা করার পর্যাপ্ত সক্ষমতা বা সামর্থ্য নেই। দুর্ভাগ্যজনক এই উভয়সংকটের মধ্যে বেঁচে থাকার জন্য জলবায়ুর ধ্বংসাত্মক পরিণতি মোকাবেলায় সিভিএফ দেশগুলো নিজেরা নিজেদের মতো

ব্যবস্থা গ্রহণে বাধ্য হচ্ছে।

জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে বাস্তুচ্যুত জনগণের দায়িত্ব বিশ্বকে ভাগ করে নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। তিনি বলেন, বাংলাদেশে এরই মধ্যে ৬০ লাখ মানুষ জলবায়ু সংকটে বাস্তুচ্যুত হয়েছে। অতিরিক্ত আরো ১১ লাখ রোহিঙ্গার ভার বইতে হচ্ছে। এ সমস্যা মোকাবেলা করা আরো কঠিন করে তুলেছে কভিড-১৯ মহামারি।

গত মঙ্গলবার স্থানীয় সময় রাত সাড়ে ৮টায় স্কটিশ পার্লামেন্টে এক ভাষণে প্রধানমন্ত্রী এ কথা বলেন।

একই দিন সন্ধ্যায় গ্লাসগোয় জাতিসংঘের জলবায়ু সম্মেলন কপ-২৬-এর ‘ফোর্জিং এ সিভিএফ-কপ-২৬ ক্লাইমেট ইমার্জেন্সি প্যাক্ট’ অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী বলেছেন, জলবায়ু অর্থায়ন ও কার্বন নিঃসরণ কমাতে উন্নত দেশগুলোর প্রতিশ্রুতি পূরণ না করাটা দুঃখজনক ও হতাশাজনক। ক্ষতিগ্রস্ত দেশগুলোকে ২০২০ থেকে ২০২৪ সাল—এই পাঁচ বছরে ৫০০

বিলিয়ন ডলার সরবরাহের পরিকল্পনা দিতে প্রধান কার্বন নিঃসরণকারী উন্নত দেশগুলোর প্রতি আহ্বান জানান তিনি।

এদিন ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী বরিস জনসনের সঙ্গেও দ্বিপক্ষীয় বৈঠক করেছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। কপ-২৬ সম্মেলনের ইউকে মিটিং রুমে এ বৈঠক হয়। বৈঠকে দ্বিপক্ষীয় ও বহুপক্ষীয় বিভিন্ন বিষয় নিয়ে আলোচনা করেন দুই প্রধানমন্ত্রী। এর আগে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ব্রিটিশ রাজসিংহাসনের উত্তরাধিকার প্রিন্স চার্লসের সঙ্গে বৈঠক করেন। এ বৈঠকেও দ্বিপক্ষীয় ও বহুপক্ষীয় বিভিন্ন বিষয়ে আলোচনা করেন তাঁরা।

kalerkanthoস্কটিশ পার্লামেন্টে পৌঁছলে স্পিকার অ্যালিসন জনস্টোন বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রীকে স্বাগত জানান। প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে ছিলেন বঙ্গবন্ধুর ছোট মেয়ে শেখ রেহানা এবং সিভিএফ দূত সায়মা ওয়াজেদ হোসেন। এ সময় স্কটিশ পার্লামেন্টের প্রথম বাংলাদেশি সদস্য ফয়সাল চৌধুরী উপস্থিত

ছিলেন।

বিশ্ব জলবায়ু সম্মেলন উপলক্ষে স্কটিশ পার্লামেন্টে আয়োজিত ‘কল ফর ক্লাইমেট প্রসপারিটি’ শীর্ষক অনুষ্ঠানে শেখ হাসিনা বলেন, জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে সমুদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতা বৃদ্ধি, নদীভাঙন, লবণাক্ততা বৃদ্ধি, বন্যা ও খরার মতো প্রাকৃতিক দুর্যোগের ঘটনায় বাস্তুচ্যুত হওয়া জলবায়ু অভিবাসীদের দায়িত্ব বিশ্বকে অবশ্যই ভাগ করে নিতে হবে। ক্ষয়ক্ষতির বিষয়টি অবশ্যই সঠিকভাবে সমাধান করতে হবে।

জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে ঝুঁকিতে থাকা দেশগুলোর জোট ক্লাইমেট ভালনারেবল ফোরাম (সিভিএফ) এবং ভালনারেবল২০ (ভি২০) সভাপতি শেখ হাসিনা তাঁর বত্তৃদ্ধতায় বলেন, কার্যকর ও পর্যাপ্ত জলবায়ু অর্থায়নই হতে পারে সমৃদ্ধি অর্জনের চাবিকাঠি। এমসিপিপি (মুজিব ক্লাইমেট প্রসপারিটি প্ল্যান) সফলভাবে বাস্তবায়নের জন্য কিছু সুপারিশ তিনি তুলে ধরেন।

শেখ হাসিনা বলেন, সবচেয়ে বেশি কার্বন নির্গমনকারী দেশগুলেকে অবশ্যই

নির্গমন কমিয়ে আনার ব্যাপকভিত্তিক জাতীয় পরিকল্পনা (এনডিসি) ঘোষণা ও বাস্তবায়ন করতে হবে। প্রশমনের ব্যাপক উদ্যোগ ছাড়া শুধু অভিযোজনের চেষ্টা জলবায়ু পরিবর্তনের বিরূপ প্রভাব বিলম্বিত করা, ঠেকানো বা পাল্টানোর জন্য যথেষ্ট নয়।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, জলবায়ু পরিবর্তনের বিরূপ প্রভাব মোকাবেলায় উন্নয়নশীল দেশগুলোকে বছরে ১০০ বিলিয়ন ডলার দেওয়ার যে অঙ্গীকার উন্নত দেশগুলো দিয়েছে, তাদের তা অবশ্যই পূরণ করতে হবে। ঝুঁকিতে থাকা দেশগুলোকে এ ক্ষেত্রে বাড়তি গুরুত্ব দিতে হবে। আর এই অর্থায়ন হতে হবে বিদ্যমান উন্নয়ন সহায়তার অতিরিক্ত। বিভিন্ন জলবায়ু তহবিলের মধ্যে সমন্বয় রাখার ওপরও জোর দেন তিনি।

শেখ হাসিনা বলেন, জলবায়ু তহবিলের অর্থ বিতরণে অভিযোজন ও প্রশমনের ক্ষেত্রে সমান বণ্টন হওয়া উচিত। আরেক প্রস্তাবে তিনি

উন্নত দেশ থেকে উন্নয়নশীল দেশগুলোতে সাশ্রয়ী মূল্যে পরিবেশবান্ধব প্রযুক্তি হস্তান্তরের কথা বলেন, যাতে জলবায়ু পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করা সম্ভব হয়।

কপ-২৬ সম্মেলনকেন্দ্রে ‘ফোর্জিং এ সিভিএফ-কপ-২৬ ক্লাইমেট ইমার্জেন্সি প্যাক্ট’ শীর্ষক সংলাপে শেখ হাসিনা বলেন, এখন পর্যন্ত প্রধান গ্রিনহাউস গ্যাস নিঃসরণকারী দেশগুলো তাদের প্রতিশ্রুত ১০০ বিলিয়ন ডলার অর্থায়ন সরবরাহ করতে ব্যর্থ হয়েছে। এটা খুবই দুঃখজনক ও হতাশাজনক।

ক্ষতিগ্রস্ত দেশগুলোকে জলবায়ু অর্থায়নে পরিকল্পনা জমা দেওয়ার আহ্বান জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘জলবায়ু পরিবর্তনে অস্তিত্ব হুমকির মুখে পড়ে আমরা সিভিএফ সদস্যরা এই কপ—এই উন্নত দেশগুলোর কাছে ২০২০ থেকে ২০২৪ পর্যন্ত পুরো পাঁচ বছরে ৫০০ বিলিয়ন ডলার সরবরাহের পরিকল্পনা দাবি করছি, যেখানে অভিযোজন ও প্রশমনে সমান সমান অর্থ সরবরাহ করতে

হবে।’

জলবায়ু পরিবর্তনের ধ্বংসাত্মক প্রভাব মোকাবেলায় ক্ষতিগ্রস্ত দেশগুলোর যথেষ্ট সক্ষমতা না থাকার কথা তুলে ধরে সিভিএফ সভাপতি শেখ হাসিনা বলেন, পর্যাপ্ত, টেকসই ও সহজ জলবায়ু অর্থায়ন ছাড়া কার্যকর কর্মপরিকল্পনা সম্ভব নয়। তিনি বলেন, ‘জলবায়ু পরিবর্তনের বিরূপ প্রভাবে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত সিভিএফ সদস্য দেশগুলো। এই সংকটের জন্য আমাদের কোনো ঐতিহাসিক ভূমিকা বা দায় না থাকা সত্ত্বেও এটি হচ্ছে।’

উন্নত দেশগুলো প্রতিশ্রুতি পূরণ না করায় ক্ষতিগ্রস্ত দেশগুলোর বিপদ বেড়ে যাচ্ছে মনে করিয়ে দিয়ে শেখ হাসিনা বলেন, সবচেয়ে ক্ষতিগ্রস্ত দেশগুলোর জলবায়ুর চ্যালেঞ্জ মোকাবেলা করার পর্যাপ্ত সক্ষমতা বা সামর্থ্য নেই। দুর্ভাগ্যজনক এই উভয়সংকটের মধ্যে বেঁচে থাকার জন্য জলবায়ুর ধ্বংসাত্মক পরিণতি মোকাবেলায় সিভিএফ দেশগুলো নিজেরা নিজেদের মতো

ব্যবস্থা গ্রহণে বাধ্য হচ্ছে।

জলবায়ু সম্মেলন-২০২১ জলবায়ু উদ্বাস্তুদের দায়িত্ব নিতে হবে

ডেস্ক নিউজ
আপডেটঃ ৪ নভেম্বর, ২০২১ | ৯:২৯ 17 ভিউ

জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে বাস্তুচ্যুত জনগণের দায়িত্ব বিশ্বকে ভাগ করে নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। তিনি বলেন, বাংলাদেশে এরই মধ্যে ৬০ লাখ মানুষ জলবায়ু সংকটে বাস্তুচ্যুত হয়েছে। অতিরিক্ত আরো ১১ লাখ রোহিঙ্গার ভার বইতে হচ্ছে। এ সমস্যা মোকাবেলা করা আরো কঠিন করে তুলেছে কভিড-১৯ মহামারি। গত মঙ্গলবার স্থানীয় সময় রাত সাড়ে ৮টায় স্কটিশ পার্লামেন্টে এক ভাষণে প্রধানমন্ত্রী এ কথা বলেন। একই দিন সন্ধ্যায় গ্লাসগোয় জাতিসংঘের জলবায়ু সম্মেলন কপ-২৬-এর ‘ফোর্জিং এ সিভিএফ-কপ-২৬ ক্লাইমেট ইমার্জেন্সি প্যাক্ট’ অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী বলেছেন, জলবায়ু অর্থায়ন ও কার্বন নিঃসরণ কমাতে উন্নত দেশগুলোর প্রতিশ্রুতি পূরণ না করাটা দুঃখজনক ও হতাশাজনক। ক্ষতিগ্রস্ত দেশগুলোকে ২০২০ থেকে ২০২৪ সাল—এই পাঁচ বছরে ৫০০

বিলিয়ন ডলার সরবরাহের পরিকল্পনা দিতে প্রধান কার্বন নিঃসরণকারী উন্নত দেশগুলোর প্রতি আহ্বান জানান তিনি। এদিন ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী বরিস জনসনের সঙ্গেও দ্বিপক্ষীয় বৈঠক করেছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। কপ-২৬ সম্মেলনের ইউকে মিটিং রুমে এ বৈঠক হয়। বৈঠকে দ্বিপক্ষীয় ও বহুপক্ষীয় বিভিন্ন বিষয় নিয়ে আলোচনা করেন দুই প্রধানমন্ত্রী। এর আগে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ব্রিটিশ রাজসিংহাসনের উত্তরাধিকার প্রিন্স চার্লসের সঙ্গে বৈঠক করেন। এ বৈঠকেও দ্বিপক্ষীয় ও বহুপক্ষীয় বিভিন্ন বিষয়ে আলোচনা করেন তাঁরা। kalerkanthoস্কটিশ পার্লামেন্টে পৌঁছলে স্পিকার অ্যালিসন জনস্টোন বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রীকে স্বাগত জানান। প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে ছিলেন বঙ্গবন্ধুর ছোট মেয়ে শেখ রেহানা এবং সিভিএফ দূত সায়মা ওয়াজেদ হোসেন। এ সময় স্কটিশ পার্লামেন্টের প্রথম বাংলাদেশি সদস্য ফয়সাল চৌধুরী উপস্থিত

ছিলেন। বিশ্ব জলবায়ু সম্মেলন উপলক্ষে স্কটিশ পার্লামেন্টে আয়োজিত ‘কল ফর ক্লাইমেট প্রসপারিটি’ শীর্ষক অনুষ্ঠানে শেখ হাসিনা বলেন, জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে সমুদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতা বৃদ্ধি, নদীভাঙন, লবণাক্ততা বৃদ্ধি, বন্যা ও খরার মতো প্রাকৃতিক দুর্যোগের ঘটনায় বাস্তুচ্যুত হওয়া জলবায়ু অভিবাসীদের দায়িত্ব বিশ্বকে অবশ্যই ভাগ করে নিতে হবে। ক্ষয়ক্ষতির বিষয়টি অবশ্যই সঠিকভাবে সমাধান করতে হবে। জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে ঝুঁকিতে থাকা দেশগুলোর জোট ক্লাইমেট ভালনারেবল ফোরাম (সিভিএফ) এবং ভালনারেবল২০ (ভি২০) সভাপতি শেখ হাসিনা তাঁর বত্তৃদ্ধতায় বলেন, কার্যকর ও পর্যাপ্ত জলবায়ু অর্থায়নই হতে পারে সমৃদ্ধি অর্জনের চাবিকাঠি। এমসিপিপি (মুজিব ক্লাইমেট প্রসপারিটি প্ল্যান) সফলভাবে বাস্তবায়নের জন্য কিছু সুপারিশ তিনি তুলে ধরেন। শেখ হাসিনা বলেন, সবচেয়ে বেশি কার্বন নির্গমনকারী দেশগুলেকে অবশ্যই

নির্গমন কমিয়ে আনার ব্যাপকভিত্তিক জাতীয় পরিকল্পনা (এনডিসি) ঘোষণা ও বাস্তবায়ন করতে হবে। প্রশমনের ব্যাপক উদ্যোগ ছাড়া শুধু অভিযোজনের চেষ্টা জলবায়ু পরিবর্তনের বিরূপ প্রভাব বিলম্বিত করা, ঠেকানো বা পাল্টানোর জন্য যথেষ্ট নয়। প্রধানমন্ত্রী বলেন, জলবায়ু পরিবর্তনের বিরূপ প্রভাব মোকাবেলায় উন্নয়নশীল দেশগুলোকে বছরে ১০০ বিলিয়ন ডলার দেওয়ার যে অঙ্গীকার উন্নত দেশগুলো দিয়েছে, তাদের তা অবশ্যই পূরণ করতে হবে। ঝুঁকিতে থাকা দেশগুলোকে এ ক্ষেত্রে বাড়তি গুরুত্ব দিতে হবে। আর এই অর্থায়ন হতে হবে বিদ্যমান উন্নয়ন সহায়তার অতিরিক্ত। বিভিন্ন জলবায়ু তহবিলের মধ্যে সমন্বয় রাখার ওপরও জোর দেন তিনি। শেখ হাসিনা বলেন, জলবায়ু তহবিলের অর্থ বিতরণে অভিযোজন ও প্রশমনের ক্ষেত্রে সমান বণ্টন হওয়া উচিত। আরেক প্রস্তাবে তিনি

উন্নত দেশ থেকে উন্নয়নশীল দেশগুলোতে সাশ্রয়ী মূল্যে পরিবেশবান্ধব প্রযুক্তি হস্তান্তরের কথা বলেন, যাতে জলবায়ু পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করা সম্ভব হয়। কপ-২৬ সম্মেলনকেন্দ্রে ‘ফোর্জিং এ সিভিএফ-কপ-২৬ ক্লাইমেট ইমার্জেন্সি প্যাক্ট’ শীর্ষক সংলাপে শেখ হাসিনা বলেন, এখন পর্যন্ত প্রধান গ্রিনহাউস গ্যাস নিঃসরণকারী দেশগুলো তাদের প্রতিশ্রুত ১০০ বিলিয়ন ডলার অর্থায়ন সরবরাহ করতে ব্যর্থ হয়েছে। এটা খুবই দুঃখজনক ও হতাশাজনক। ক্ষতিগ্রস্ত দেশগুলোকে জলবায়ু অর্থায়নে পরিকল্পনা জমা দেওয়ার আহ্বান জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘জলবায়ু পরিবর্তনে অস্তিত্ব হুমকির মুখে পড়ে আমরা সিভিএফ সদস্যরা এই কপ—এই উন্নত দেশগুলোর কাছে ২০২০ থেকে ২০২৪ পর্যন্ত পুরো পাঁচ বছরে ৫০০ বিলিয়ন ডলার সরবরাহের পরিকল্পনা দাবি করছি, যেখানে অভিযোজন ও প্রশমনে সমান সমান অর্থ সরবরাহ করতে

হবে।’ জলবায়ু পরিবর্তনের ধ্বংসাত্মক প্রভাব মোকাবেলায় ক্ষতিগ্রস্ত দেশগুলোর যথেষ্ট সক্ষমতা না থাকার কথা তুলে ধরে সিভিএফ সভাপতি শেখ হাসিনা বলেন, পর্যাপ্ত, টেকসই ও সহজ জলবায়ু অর্থায়ন ছাড়া কার্যকর কর্মপরিকল্পনা সম্ভব নয়। তিনি বলেন, ‘জলবায়ু পরিবর্তনের বিরূপ প্রভাবে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত সিভিএফ সদস্য দেশগুলো। এই সংকটের জন্য আমাদের কোনো ঐতিহাসিক ভূমিকা বা দায় না থাকা সত্ত্বেও এটি হচ্ছে।’ উন্নত দেশগুলো প্রতিশ্রুতি পূরণ না করায় ক্ষতিগ্রস্ত দেশগুলোর বিপদ বেড়ে যাচ্ছে মনে করিয়ে দিয়ে শেখ হাসিনা বলেন, সবচেয়ে ক্ষতিগ্রস্ত দেশগুলোর জলবায়ুর চ্যালেঞ্জ মোকাবেলা করার পর্যাপ্ত সক্ষমতা বা সামর্থ্য নেই। দুর্ভাগ্যজনক এই উভয়সংকটের মধ্যে বেঁচে থাকার জন্য জলবায়ুর ধ্বংসাত্মক পরিণতি মোকাবেলায় সিভিএফ দেশগুলো নিজেরা নিজেদের মতো

ব্যবস্থা গ্রহণে বাধ্য হচ্ছে।

দৈনিক ডোনেট বাংলাদেশ সংবিধান ও জনমতের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। তাই ধর্ম ও রাষ্ট্রবিরোধী এবং উষ্কানীমূলক কোনো বক্তব্য না করার জন্য পাঠকদের অনুরোধ করা হলো। কর্তৃপক্ষ যেকোনো ধরণের আপত্তিকর মন্তব্য মডারেশনের ক্ষমতা রাখেন।

ট্যাগ:

সংশ্লিষ্ট সংবাদ: