ডোনেট কর্ণার - দৈনিক ডোনেট বাংলাদেশ

দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) নিয়ে নানা ধরনের সমালোচনামূলক কথা বলা হলেও এ সংস্থাটির সাফল্য একেবারে কম নয়। যেমন উল্লেখ করা যায়, গত তিন বছরে আদালতের আদেশে দুদক ২১শ কোটি টাকার বেশি সম্পদ ক্রোক ও ফ্রিজ করেছে। এর মধ্যে ক্রোক করা সম্পদের (স্থাবর সম্পদ) মূল্য ৬২০ কোটি ৩৮ লাখ টাকা এবং ফ্রিজ করা সম্পদের (অস্থাবর সম্পদ) মূল্য ১ হাজার ৪৩৭ কোটি টাকা।

এ প্রসঙ্গে দুদক কমিশনার ড. মোজাম্মেল হক বলেছেন, অনুসন্ধান ও তদন্ত স্বাধীনভাবে সম্পন্ন করা হয়েছে। অনুসন্ধান ও তদন্তের স্বার্থেই আলোচ্য সম্পদ ক্রোক ও ফ্রিজের জন্য আদালতে আবেদন করা হয়েছিল। আদালতের অনুমতিক্রমে এসব স্থাবর ও অস্থাবর সম্পদ ক্রোক ও ফ্রিজ করা

হয়েছে। এই সম্পদগুলো দুর্নীতির মাধ্যমে অর্জিত হয়েছে বলে বিশ্বাস করা চলে।

ওদিকে ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশ (টিআইবি)-এর নির্বাহী পরিচালক ড. ইফতেখারুজ্জামান বলেছেন, অনেক প্রতিকূলতার পরও দুদক যে এটি করতে পেরেছে, তা একটি ইতিবাচক সংবাদ। এই ধারা অব্যাহত রাখতে হবে। আরও ব্যাপকভাবে তদন্ত ও অনুসন্ধান করতে হবে। আমরাও মনে করি, ২১শ কোটি টাকার সম্পদ ক্রোক ও ফ্রিজ করা একটি বড় ঘটনা। এটি দুদকের একটি বড় সাফল্যও বটে। দেশে দুর্নীতির যে বিস্তার ঘটেছে, তা রোধ করতে হলে দুর্নীতির বিরুদ্ধে এ ধরনের দৃষ্টান্ত স্থাপন করা অতি জরুরি বলা যায়।

আশার কথা, দুদককে আরও শক্তিশালী করার লক্ষ্যে সংস্থাটিকে মার্কিন গোয়েন্দা সংস্থা এফবিআই, ভারতীয় গোয়েন্দা সংস্থা সিবিআই ও

অন্যান্য আন্তর্জাতিক সংস্থার আদলে গড়ে তোলার নানা উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। সেই অনুযায়ী কর্মকর্তাদের প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। দুদকের গোয়েন্দা বিভাগের কার্যক্রম কেন্দ্র থেকে জেলা পর্যায়ে সম্প্রসারণ করা হয়েছে। সন্দেহভাজন দুর্নীতিবাজদের গতিবিধি অনুসরণে তথ্যপ্রযুক্তি ও কল রেকর্ডের জন্য নিজস্ব সার্ভার স্থাপন করেছে দুদক।

মানুষের কাছ থেকে দুর্নীতির অভিযোগ গ্রহণের জন্য একটি বিশেষ হটলাইন চালু করা হয়েছে। এসব পদক্ষেপকে ইতিবাচক বলা যেতে পারে। তবে তা তখনই সফল বলে বিবেচিত হবে, যখন দুর্নীতি প্রতিরোধে এসব কার্যক্রমের বাস্তব ফল পাওয়া যাবে। আর এজন্য প্রয়োজন শুধু ছোট ও মধ্য পর্যায়ের নয়, উচ্চপর্যায়ের দুর্নীতিবাজদের বিরুদ্ধেও ব্যবস্থা গ্রহণ।

দুদকের ক্ষমতার আওতাও বাড়ানো হয়েছে। দুদক এখন তদন্ত বা অনুসন্ধানের জন্য

আয়কর বিভাগ এবং ব্যাংকগুলো থেকে ব্যক্তির যাবতীয় তথ্য সরাসরি তলব করতে পারে। গুরুত্ব বিবেচনায় নিয়ে অভিযোগ অনুসন্ধান না করেই সরাসরি মামলা করতে পারে। বস্তুত, আইন ও বিধি সংশোধন করে থানায় না গিয়ে নিজস্ব কার্যালয়ে মামলা করার ক্ষমতা পেয়েছে দুদক।

এসব এখতিয়ার প্রয়োগে দুদককে প্রভাবশালীদের বিরাগভাজন হওয়ার ভয় পেলে চলবে না, সাহসিকতার পরিচয় দিতে হবে। তবে দুদকের একার পক্ষে দেশ থেকে দুর্নীতি নির্মূল সম্ভব নয়। প্রয়োজন রাজনৈতিক নেতৃত্বের সদিচ্ছা। প্রকৃতপক্ষে রাজনৈতিক সদিচ্ছার ঘাটতির কারণেই দুর্নীতির রাশ টানা যাচ্ছে না। দুর্নীতিবাজদের কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করতে হলে একটি অনুকূল রাজনৈতিক পরিমণ্ডল প্রয়োজন। এটি অনুধাবন করতে হবে সংশ্লিষ্ট সবাইকে।

দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) নিয়ে নানা ধরনের সমালোচনামূলক কথা বলা হলেও এ সংস্থাটির সাফল্য একেবারে কম নয়। যেমন উল্লেখ করা যায়, গত তিন বছরে আদালতের আদেশে দুদক ২১শ কোটি টাকার বেশি সম্পদ ক্রোক ও ফ্রিজ করেছে। এর মধ্যে ক্রোক করা সম্পদের (স্থাবর সম্পদ) মূল্য ৬২০ কোটি ৩৮ লাখ টাকা এবং ফ্রিজ করা সম্পদের (অস্থাবর সম্পদ) মূল্য ১ হাজার ৪৩৭ কোটি টাকা।

এ প্রসঙ্গে দুদক কমিশনার ড. মোজাম্মেল হক বলেছেন, অনুসন্ধান ও তদন্ত স্বাধীনভাবে সম্পন্ন করা হয়েছে। অনুসন্ধান ও তদন্তের স্বার্থেই আলোচ্য সম্পদ ক্রোক ও ফ্রিজের জন্য আদালতে আবেদন করা হয়েছিল। আদালতের অনুমতিক্রমে এসব স্থাবর ও অস্থাবর সম্পদ ক্রোক ও ফ্রিজ করা

হয়েছে। এই সম্পদগুলো দুর্নীতির মাধ্যমে অর্জিত হয়েছে বলে বিশ্বাস করা চলে।

ওদিকে ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশ (টিআইবি)-এর নির্বাহী পরিচালক ড. ইফতেখারুজ্জামান বলেছেন, অনেক প্রতিকূলতার পরও দুদক যে এটি করতে পেরেছে, তা একটি ইতিবাচক সংবাদ। এই ধারা অব্যাহত রাখতে হবে। আরও ব্যাপকভাবে তদন্ত ও অনুসন্ধান করতে হবে। আমরাও মনে করি, ২১শ কোটি টাকার সম্পদ ক্রোক ও ফ্রিজ করা একটি বড় ঘটনা। এটি দুদকের একটি বড় সাফল্যও বটে। দেশে দুর্নীতির যে বিস্তার ঘটেছে, তা রোধ করতে হলে দুর্নীতির বিরুদ্ধে এ ধরনের দৃষ্টান্ত স্থাপন করা অতি জরুরি বলা যায়।

আশার কথা, দুদককে আরও শক্তিশালী করার লক্ষ্যে সংস্থাটিকে মার্কিন গোয়েন্দা সংস্থা এফবিআই, ভারতীয় গোয়েন্দা সংস্থা সিবিআই ও

অন্যান্য আন্তর্জাতিক সংস্থার আদলে গড়ে তোলার নানা উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। সেই অনুযায়ী কর্মকর্তাদের প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। দুদকের গোয়েন্দা বিভাগের কার্যক্রম কেন্দ্র থেকে জেলা পর্যায়ে সম্প্রসারণ করা হয়েছে। সন্দেহভাজন দুর্নীতিবাজদের গতিবিধি অনুসরণে তথ্যপ্রযুক্তি ও কল রেকর্ডের জন্য নিজস্ব সার্ভার স্থাপন করেছে দুদক।

মানুষের কাছ থেকে দুর্নীতির অভিযোগ গ্রহণের জন্য একটি বিশেষ হটলাইন চালু করা হয়েছে। এসব পদক্ষেপকে ইতিবাচক বলা যেতে পারে। তবে তা তখনই সফল বলে বিবেচিত হবে, যখন দুর্নীতি প্রতিরোধে এসব কার্যক্রমের বাস্তব ফল পাওয়া যাবে। আর এজন্য প্রয়োজন শুধু ছোট ও মধ্য পর্যায়ের নয়, উচ্চপর্যায়ের দুর্নীতিবাজদের বিরুদ্ধেও ব্যবস্থা গ্রহণ।

দুদকের ক্ষমতার আওতাও বাড়ানো হয়েছে। দুদক এখন তদন্ত বা অনুসন্ধানের জন্য

আয়কর বিভাগ এবং ব্যাংকগুলো থেকে ব্যক্তির যাবতীয় তথ্য সরাসরি তলব করতে পারে। গুরুত্ব বিবেচনায় নিয়ে অভিযোগ অনুসন্ধান না করেই সরাসরি মামলা করতে পারে। বস্তুত, আইন ও বিধি সংশোধন করে থানায় না গিয়ে নিজস্ব কার্যালয়ে মামলা করার ক্ষমতা পেয়েছে দুদক।

এসব এখতিয়ার প্রয়োগে দুদককে প্রভাবশালীদের বিরাগভাজন হওয়ার ভয় পেলে চলবে না, সাহসিকতার পরিচয় দিতে হবে। তবে দুদকের একার পক্ষে দেশ থেকে দুর্নীতি নির্মূল সম্ভব নয়। প্রয়োজন রাজনৈতিক নেতৃত্বের সদিচ্ছা। প্রকৃতপক্ষে রাজনৈতিক সদিচ্ছার ঘাটতির কারণেই দুর্নীতির রাশ টানা যাচ্ছে না। দুর্নীতিবাজদের কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করতে হলে একটি অনুকূল রাজনৈতিক পরিমণ্ডল প্রয়োজন। এটি অনুধাবন করতে হবে সংশ্লিষ্ট সবাইকে।

নিউজ ডেক্স
আপডেটঃ ৪ নভেম্বর, ২০২১
২:১৪ অপরাহ্ণ
15 ভিউ

ডোনেট কর্ণার

ডেস্ক নিউজ
আপডেটঃ ৪ নভেম্বর, ২০২১ | ২:১৪ 15 ভিউ

দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) নিয়ে নানা ধরনের সমালোচনামূলক কথা বলা হলেও এ সংস্থাটির সাফল্য একেবারে কম নয়। যেমন উল্লেখ করা যায়, গত তিন বছরে আদালতের আদেশে দুদক ২১শ কোটি টাকার বেশি সম্পদ ক্রোক ও ফ্রিজ করেছে। এর মধ্যে ক্রোক করা সম্পদের (স্থাবর সম্পদ) মূল্য ৬২০ কোটি ৩৮ লাখ টাকা এবং ফ্রিজ করা সম্পদের (অস্থাবর সম্পদ) মূল্য ১ হাজার ৪৩৭ কোটি টাকা। এ প্রসঙ্গে দুদক কমিশনার ড. মোজাম্মেল হক বলেছেন, অনুসন্ধান ও তদন্ত স্বাধীনভাবে সম্পন্ন করা হয়েছে। অনুসন্ধান ও তদন্তের স্বার্থেই আলোচ্য সম্পদ ক্রোক ও ফ্রিজের জন্য আদালতে আবেদন করা হয়েছিল। আদালতের অনুমতিক্রমে এসব স্থাবর ও অস্থাবর সম্পদ ক্রোক ও ফ্রিজ করা

হয়েছে। এই সম্পদগুলো দুর্নীতির মাধ্যমে অর্জিত হয়েছে বলে বিশ্বাস করা চলে। ওদিকে ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশ (টিআইবি)-এর নির্বাহী পরিচালক ড. ইফতেখারুজ্জামান বলেছেন, অনেক প্রতিকূলতার পরও দুদক যে এটি করতে পেরেছে, তা একটি ইতিবাচক সংবাদ। এই ধারা অব্যাহত রাখতে হবে। আরও ব্যাপকভাবে তদন্ত ও অনুসন্ধান করতে হবে। আমরাও মনে করি, ২১শ কোটি টাকার সম্পদ ক্রোক ও ফ্রিজ করা একটি বড় ঘটনা। এটি দুদকের একটি বড় সাফল্যও বটে। দেশে দুর্নীতির যে বিস্তার ঘটেছে, তা রোধ করতে হলে দুর্নীতির বিরুদ্ধে এ ধরনের দৃষ্টান্ত স্থাপন করা অতি জরুরি বলা যায়। আশার কথা, দুদককে আরও শক্তিশালী করার লক্ষ্যে সংস্থাটিকে মার্কিন গোয়েন্দা সংস্থা এফবিআই, ভারতীয় গোয়েন্দা সংস্থা সিবিআই ও

অন্যান্য আন্তর্জাতিক সংস্থার আদলে গড়ে তোলার নানা উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। সেই অনুযায়ী কর্মকর্তাদের প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। দুদকের গোয়েন্দা বিভাগের কার্যক্রম কেন্দ্র থেকে জেলা পর্যায়ে সম্প্রসারণ করা হয়েছে। সন্দেহভাজন দুর্নীতিবাজদের গতিবিধি অনুসরণে তথ্যপ্রযুক্তি ও কল রেকর্ডের জন্য নিজস্ব সার্ভার স্থাপন করেছে দুদক। মানুষের কাছ থেকে দুর্নীতির অভিযোগ গ্রহণের জন্য একটি বিশেষ হটলাইন চালু করা হয়েছে। এসব পদক্ষেপকে ইতিবাচক বলা যেতে পারে। তবে তা তখনই সফল বলে বিবেচিত হবে, যখন দুর্নীতি প্রতিরোধে এসব কার্যক্রমের বাস্তব ফল পাওয়া যাবে। আর এজন্য প্রয়োজন শুধু ছোট ও মধ্য পর্যায়ের নয়, উচ্চপর্যায়ের দুর্নীতিবাজদের বিরুদ্ধেও ব্যবস্থা গ্রহণ। দুদকের ক্ষমতার আওতাও বাড়ানো হয়েছে। দুদক এখন তদন্ত বা অনুসন্ধানের জন্য

আয়কর বিভাগ এবং ব্যাংকগুলো থেকে ব্যক্তির যাবতীয় তথ্য সরাসরি তলব করতে পারে। গুরুত্ব বিবেচনায় নিয়ে অভিযোগ অনুসন্ধান না করেই সরাসরি মামলা করতে পারে। বস্তুত, আইন ও বিধি সংশোধন করে থানায় না গিয়ে নিজস্ব কার্যালয়ে মামলা করার ক্ষমতা পেয়েছে দুদক। এসব এখতিয়ার প্রয়োগে দুদককে প্রভাবশালীদের বিরাগভাজন হওয়ার ভয় পেলে চলবে না, সাহসিকতার পরিচয় দিতে হবে। তবে দুদকের একার পক্ষে দেশ থেকে দুর্নীতি নির্মূল সম্ভব নয়। প্রয়োজন রাজনৈতিক নেতৃত্বের সদিচ্ছা। প্রকৃতপক্ষে রাজনৈতিক সদিচ্ছার ঘাটতির কারণেই দুর্নীতির রাশ টানা যাচ্ছে না। দুর্নীতিবাজদের কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করতে হলে একটি অনুকূল রাজনৈতিক পরিমণ্ডল প্রয়োজন। এটি অনুধাবন করতে হবে সংশ্লিষ্ট সবাইকে।

দৈনিক ডোনেট বাংলাদেশ সংবিধান ও জনমতের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। তাই ধর্ম ও রাষ্ট্রবিরোধী এবং উষ্কানীমূলক কোনো বক্তব্য না করার জন্য পাঠকদের অনুরোধ করা হলো। কর্তৃপক্ষ যেকোনো ধরণের আপত্তিকর মন্তব্য মডারেশনের ক্ষমতা রাখেন।

ট্যাগ:

সংশ্লিষ্ট সংবাদ: