শেষটা ভালোর আশায় বাংলাদেশ - দৈনিক ডোনেট বাংলাদেশ

সন্ধ্যা নামলেই দুবাইয়ের চোখ-ধাঁধানো আলোর বন্যা যেন ইদানীং জলোচ্ছ্বাসেই পরিণত। বিশেষ করে আবাসিক এলাকাগুলোতে বাড়ির বাইরের আলোকসজ্জা একই সঙ্গে দারুণ এক অসাম্প্রদায়িক শহরের জয়ধ্বনিও তুলে যাচ্ছে অবিরাম, যা কয়েক দিন ধরে এখানেই থিতু হওয়া সনাতন ধর্মাবলম্বীদের উৎসবের আগাম প্রস্তুতির ঘণ্টাই বাজিয়ে গেছে প্রতিনিয়ত। ক্ষণগণনা শেষে আজই যে তাদের দেওয়ালির রাত।

kalerkanthoএই রাত ঘনিয়ে আসার আগেই বাংলাদেশ দলও জেনে যাবে যে তারা আরো অন্ধকারেই তলিয়ে যাবে নাকি ধ্বংসস্তূপ থেকে একটু হলেও মাথা তুলে দাঁড়াবে! হেড কোচ রাসেল ডমিঙ্গো থেকে শুরু করে স্পিন বোলিং উপদেষ্টা রঙ্গনা হেরাথরা যতই শেষ ম্যাচে ঘুরে দাঁড়ানোর আশাবাদ শোনান না কেন, আবুধাবিতে দক্ষিণ আফ্রিকা ম্যাচে বিধ্বস্ত দলের পক্ষে

বাজি ধরার লোক খুঁজে পাওয়াই মুশকিল। তার ওপর আজ দুপুরে দুবাই আন্তর্জাতিক ক্রিকেট স্টেডিয়ামে অস্ট্রেলিয়াও প্রতিপক্ষকে ছিঁড়েখুঁড়ে ফেলতে তৈরি।

সেই প্রস্তুতিটা কিছুদিন আগে বাংলাদেশের ধীরগতির ও স্পিন সহায়ক নিচু বাউন্সের উইকেটে বিধ্বস্ত হয়ে আসার প্রতিশোধ নিতে অবশ্যই নয়। তিন ম্যাচের দুটিতে জিতেও এমন এক খাদের কিনারে অ্যারন ফিঞ্চের দল দাঁড়িয়ে যে এখান থেকে পরের দুই ম্যাচ জিতেও সেমিফাইনালের অঙ্ক জটিল হয়ে যেতে পারে। এমনকি গ্রুপ ওয়ান থেকে এরই মধ্যে চার ম্যাচের সব কয়টি জিতেও যেখানে ইংল্যান্ডের শেষ চার নিশ্চিত নয় এখনো, সেখানে প্রোটিয়াদের নিয়ে সেমিফাইনালে যাওয়ার ত্রিমুখী লড়াই-ই চলছে।

লড়াইয়ে অস্ট্রেলিয়ার কিছুটা সুবিধা করে দিতে পারে ইংল্যান্ডও। ৬ নভেম্বর তারা প্রোটিয়াদের হারালে

এবং অস্ট্রেলিয়া পরের দুই ম্যাচই জিতলে দুই দলের জন্যই খুলে যাবে শেষ চারের দুয়ার। কিন্তু তা যদি না হয়? যদি দক্ষিণ আফ্রিকাই হারায় ইংল্যান্ডকে? সে ক্ষেত্রে অস্ট্রেলিয়া তাদের শেষ দুই ম্যাচ জিতলেও তিন দলের সমান ৮ পয়েন্ট হয়ে গেলে শ্রেয়তর রানরেটেই নির্ধারিত হবে দুই সেমিফাইনালিস্ট। তাই আজ শেষ দুইয়ের প্রথমটিতে বাংলাদেশকে দক্ষিণ আফ্রিকার মতো করেই দুমড়ে-মুচড়ে দিয়ে রানরেট বাড়িয়ে রাখতেও ভীষণ মরিয়া হয়ে থাকবে অস্ট্রেলিয়া।

কাজেই মনোবল হারানো বাংলাদেশের সম্ভাবনার নিক্তি এক দিকেই বেশি ঝুলে পড়ছে আরো। এখন পর্যন্ত জয়হীন সুপার টুয়েলভ পর্বের শেষে এসে শুকনো মুখে শোনানো হেরাথের আশাবাদও দুই পাল্লাকে সমান-সমান করতে পারছে না কিছুতেই, ‘পেশাদার হিসেবে আমাদের প্রবলভাবে

ঘুরে দাঁড়ানো দরকার। আমাদের আর একটি ম্যাচই আছে। জয়ের মানসিকতা নিয়ে নেমেই জয়ের বিশ্বাস গড়ে তুলতে হবে। আগামীকাল অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে জেতার আরেকটি সুযোগ আছে আমাদের। ছেলেরাও নিশ্চয়ই নিজেদের পারফরম্যান্স কাটাছেঁড়া করে বুঝবে যে ওরা কী করেছিল আর কী করতে হবে। আশা করছি, ওরা ভালোভাবেই ঘুরে দাঁড়াবে।’

ঘুরে দাঁড়ানোর জন্য দুবাইয়ের উইকেটও বাংলাদেশের স্পিনারদের দিকে হাত বাড়িয়ে রাখবে বলে বিশ্বাস হেরাথের, ‘আমরা জানতাম যে বিশ্বকাপের উইকেটেও স্পিনারদের জন্য সহায়তা থাকবে। আগামীকাল দুবাইয়ের উইকেট থেকেও আমরা তা পাব বলে মনে হচ্ছে। তা ছাড়া এই আসরে স্পিনাররাও কিন্তু দারুণ করছে। যেমন রশিদ খান, আদিল রশিদ এবং ওয়ানিন্দু হাসারাঙ্গারা। আমাদের সাকিব, নাসুম ও মেহেদীরাও কিন্তু

ভালোই করেছে।’ দলের স্পিন সামর্থ্যের অনেকটা নিয়ে এরই মধ্যে বিশ্বকাপ থেকে ছিটকে পড়েছেন সাকিব। আর হেরাথ যে তিনজন ভিনদেশি সফল স্পিনারের কথা বললেন, এঁদের প্রত্যেকেই রিস্ট স্পিনার। নিজেদের না থাকলেও এ রকম স্পিনারের সামনে হিমশিম খাওয়ার টাটকা ঘটনা তো আবুধাবির দক্ষিণ আফ্রিকা ম্যাচেই। পেস সহায়ক উইকেটেও চায়নাম্যান তাবরাইজ শামসি অবলীলায় ভুগিয়ে গেছেন বাংলাদেশের ব্যাটারদের। অস্ট্রেলিয়ার লেগ স্পিনার অ্যাডাম জাম্পাও নিশ্চয়ই আজ একই লক্ষ্যে মুখিয়ে থাকবেন।

অর্থাৎ শেষ ম্যাচেও যে লড়াই আগের মতোই কঠিন থাকছে মাহমুদ উল্লাহদের জন্য, সেটি অস্ট্রেলিয়ার বাঁহাতি স্পিনার অ্যাস্টন অ্যাগারও মনে করিয়ে দিলেন, ‘আমরা এখন অন্য দল (পুরো শক্তির দল বুঝিয়ে, বাংলাদেশ সফরে যাননি শীর্ষ ক্রিকেটারদের অনেকেই)। তা

ছাড়া এখানকার উইকেটও সেখানকার (ঢাকার মিরপুর শেরেবাংলা স্টেডিয়ামের মতো) মতো হবে না নিশ্চিতভাবেই।’

দেশের অনুকূল উইকেটে খেলে অবশ্য বেশ কিছু রেটিং পয়েন্ট বাড়িয়ে র্যাংকিংয়ের ছয়ে ওঠা গিয়েছিল। সুপার টুয়েলভে প্রথম তিন ম্যাচ হেরে আবার ৯-এ নেমে যাওয়া বাংলাদেশের সামনে তবু একটা প্রাপ্তির হাতছানি আছে। সেটি ২০২২ সালে অস্ট্রেলিয়ায় অনুষ্ঠেয় টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের মূল পর্বে সরাসরি খেলার সুযোগ। চলতি আসরের ফাইনালের দুই দল ও ফাইনালের পরদিনের র্যাংকিংয়ে (১৫ নভেম্বর) শীর্ষে থাকা সুপার টুয়েলভের ছয় দল সরাসরি খেলবে পরের আসরের মূল পর্বে। আজ জিতলে সেই সম্ভাবনা বেশি থাকবে বাংলাদেশেরও। সেই সঙ্গে মন্দের ভালো একটা কিছুও হবে।

অন্তত একটি জয় নিয়ে দেশে ফেরা যাবে এবং কিছুটা

হলেও একাত্ম হওয়া যাবে দেওয়ালির রাতের ঝলমলে আলোর সঙ্গেও। প্রতিপক্ষ খাদের কিনারে দাঁড়ানো অস্ট্রেলিয়া বলে আবার ঘুটঘুটে অন্ধকারও চোখ রাঙিয়ে আছে!

সন্ধ্যা নামলেই দুবাইয়ের চোখ-ধাঁধানো আলোর বন্যা যেন ইদানীং জলোচ্ছ্বাসেই পরিণত। বিশেষ করে আবাসিক এলাকাগুলোতে বাড়ির বাইরের আলোকসজ্জা একই সঙ্গে দারুণ এক অসাম্প্রদায়িক শহরের জয়ধ্বনিও তুলে যাচ্ছে অবিরাম, যা কয়েক দিন ধরে এখানেই থিতু হওয়া সনাতন ধর্মাবলম্বীদের উৎসবের আগাম প্রস্তুতির ঘণ্টাই বাজিয়ে গেছে প্রতিনিয়ত। ক্ষণগণনা শেষে আজই যে তাদের দেওয়ালির রাত।

kalerkanthoএই রাত ঘনিয়ে আসার আগেই বাংলাদেশ দলও জেনে যাবে যে তারা আরো অন্ধকারেই তলিয়ে যাবে নাকি ধ্বংসস্তূপ থেকে একটু হলেও মাথা তুলে দাঁড়াবে! হেড কোচ রাসেল ডমিঙ্গো থেকে শুরু করে স্পিন বোলিং উপদেষ্টা রঙ্গনা হেরাথরা যতই শেষ ম্যাচে ঘুরে দাঁড়ানোর আশাবাদ শোনান না কেন, আবুধাবিতে দক্ষিণ আফ্রিকা ম্যাচে বিধ্বস্ত দলের পক্ষে

বাজি ধরার লোক খুঁজে পাওয়াই মুশকিল। তার ওপর আজ দুপুরে দুবাই আন্তর্জাতিক ক্রিকেট স্টেডিয়ামে অস্ট্রেলিয়াও প্রতিপক্ষকে ছিঁড়েখুঁড়ে ফেলতে তৈরি।

সেই প্রস্তুতিটা কিছুদিন আগে বাংলাদেশের ধীরগতির ও স্পিন সহায়ক নিচু বাউন্সের উইকেটে বিধ্বস্ত হয়ে আসার প্রতিশোধ নিতে অবশ্যই নয়। তিন ম্যাচের দুটিতে জিতেও এমন এক খাদের কিনারে অ্যারন ফিঞ্চের দল দাঁড়িয়ে যে এখান থেকে পরের দুই ম্যাচ জিতেও সেমিফাইনালের অঙ্ক জটিল হয়ে যেতে পারে। এমনকি গ্রুপ ওয়ান থেকে এরই মধ্যে চার ম্যাচের সব কয়টি জিতেও যেখানে ইংল্যান্ডের শেষ চার নিশ্চিত নয় এখনো, সেখানে প্রোটিয়াদের নিয়ে সেমিফাইনালে যাওয়ার ত্রিমুখী লড়াই-ই চলছে।

লড়াইয়ে অস্ট্রেলিয়ার কিছুটা সুবিধা করে দিতে পারে ইংল্যান্ডও। ৬ নভেম্বর তারা প্রোটিয়াদের হারালে

এবং অস্ট্রেলিয়া পরের দুই ম্যাচই জিতলে দুই দলের জন্যই খুলে যাবে শেষ চারের দুয়ার। কিন্তু তা যদি না হয়? যদি দক্ষিণ আফ্রিকাই হারায় ইংল্যান্ডকে? সে ক্ষেত্রে অস্ট্রেলিয়া তাদের শেষ দুই ম্যাচ জিতলেও তিন দলের সমান ৮ পয়েন্ট হয়ে গেলে শ্রেয়তর রানরেটেই নির্ধারিত হবে দুই সেমিফাইনালিস্ট। তাই আজ শেষ দুইয়ের প্রথমটিতে বাংলাদেশকে দক্ষিণ আফ্রিকার মতো করেই দুমড়ে-মুচড়ে দিয়ে রানরেট বাড়িয়ে রাখতেও ভীষণ মরিয়া হয়ে থাকবে অস্ট্রেলিয়া।

কাজেই মনোবল হারানো বাংলাদেশের সম্ভাবনার নিক্তি এক দিকেই বেশি ঝুলে পড়ছে আরো। এখন পর্যন্ত জয়হীন সুপার টুয়েলভ পর্বের শেষে এসে শুকনো মুখে শোনানো হেরাথের আশাবাদও দুই পাল্লাকে সমান-সমান করতে পারছে না কিছুতেই, ‘পেশাদার হিসেবে আমাদের প্রবলভাবে

ঘুরে দাঁড়ানো দরকার। আমাদের আর একটি ম্যাচই আছে। জয়ের মানসিকতা নিয়ে নেমেই জয়ের বিশ্বাস গড়ে তুলতে হবে। আগামীকাল অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে জেতার আরেকটি সুযোগ আছে আমাদের। ছেলেরাও নিশ্চয়ই নিজেদের পারফরম্যান্স কাটাছেঁড়া করে বুঝবে যে ওরা কী করেছিল আর কী করতে হবে। আশা করছি, ওরা ভালোভাবেই ঘুরে দাঁড়াবে।’

ঘুরে দাঁড়ানোর জন্য দুবাইয়ের উইকেটও বাংলাদেশের স্পিনারদের দিকে হাত বাড়িয়ে রাখবে বলে বিশ্বাস হেরাথের, ‘আমরা জানতাম যে বিশ্বকাপের উইকেটেও স্পিনারদের জন্য সহায়তা থাকবে। আগামীকাল দুবাইয়ের উইকেট থেকেও আমরা তা পাব বলে মনে হচ্ছে। তা ছাড়া এই আসরে স্পিনাররাও কিন্তু দারুণ করছে। যেমন রশিদ খান, আদিল রশিদ এবং ওয়ানিন্দু হাসারাঙ্গারা। আমাদের সাকিব, নাসুম ও মেহেদীরাও কিন্তু

ভালোই করেছে।’ দলের স্পিন সামর্থ্যের অনেকটা নিয়ে এরই মধ্যে বিশ্বকাপ থেকে ছিটকে পড়েছেন সাকিব। আর হেরাথ যে তিনজন ভিনদেশি সফল স্পিনারের কথা বললেন, এঁদের প্রত্যেকেই রিস্ট স্পিনার। নিজেদের না থাকলেও এ রকম স্পিনারের সামনে হিমশিম খাওয়ার টাটকা ঘটনা তো আবুধাবির দক্ষিণ আফ্রিকা ম্যাচেই। পেস সহায়ক উইকেটেও চায়নাম্যান তাবরাইজ শামসি অবলীলায় ভুগিয়ে গেছেন বাংলাদেশের ব্যাটারদের। অস্ট্রেলিয়ার লেগ স্পিনার অ্যাডাম জাম্পাও নিশ্চয়ই আজ একই লক্ষ্যে মুখিয়ে থাকবেন।

অর্থাৎ শেষ ম্যাচেও যে লড়াই আগের মতোই কঠিন থাকছে মাহমুদ উল্লাহদের জন্য, সেটি অস্ট্রেলিয়ার বাঁহাতি স্পিনার অ্যাস্টন অ্যাগারও মনে করিয়ে দিলেন, ‘আমরা এখন অন্য দল (পুরো শক্তির দল বুঝিয়ে, বাংলাদেশ সফরে যাননি শীর্ষ ক্রিকেটারদের অনেকেই)। তা

ছাড়া এখানকার উইকেটও সেখানকার (ঢাকার মিরপুর শেরেবাংলা স্টেডিয়ামের মতো) মতো হবে না নিশ্চিতভাবেই।’

দেশের অনুকূল উইকেটে খেলে অবশ্য বেশ কিছু রেটিং পয়েন্ট বাড়িয়ে র্যাংকিংয়ের ছয়ে ওঠা গিয়েছিল। সুপার টুয়েলভে প্রথম তিন ম্যাচ হেরে আবার ৯-এ নেমে যাওয়া বাংলাদেশের সামনে তবু একটা প্রাপ্তির হাতছানি আছে। সেটি ২০২২ সালে অস্ট্রেলিয়ায় অনুষ্ঠেয় টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের মূল পর্বে সরাসরি খেলার সুযোগ। চলতি আসরের ফাইনালের দুই দল ও ফাইনালের পরদিনের র্যাংকিংয়ে (১৫ নভেম্বর) শীর্ষে থাকা সুপার টুয়েলভের ছয় দল সরাসরি খেলবে পরের আসরের মূল পর্বে। আজ জিতলে সেই সম্ভাবনা বেশি থাকবে বাংলাদেশেরও। সেই সঙ্গে মন্দের ভালো একটা কিছুও হবে।

অন্তত একটি জয় নিয়ে দেশে ফেরা যাবে এবং কিছুটা

হলেও একাত্ম হওয়া যাবে দেওয়ালির রাতের ঝলমলে আলোর সঙ্গেও। প্রতিপক্ষ খাদের কিনারে দাঁড়ানো অস্ট্রেলিয়া বলে আবার ঘুটঘুটে অন্ধকারও চোখ রাঙিয়ে আছে!

শেষটা ভালোর আশায় বাংলাদেশ

ডেস্ক নিউজ
আপডেটঃ ৪ নভেম্বর, ২০২১ | ৯:৩২ 13 ভিউ

সন্ধ্যা নামলেই দুবাইয়ের চোখ-ধাঁধানো আলোর বন্যা যেন ইদানীং জলোচ্ছ্বাসেই পরিণত। বিশেষ করে আবাসিক এলাকাগুলোতে বাড়ির বাইরের আলোকসজ্জা একই সঙ্গে দারুণ এক অসাম্প্রদায়িক শহরের জয়ধ্বনিও তুলে যাচ্ছে অবিরাম, যা কয়েক দিন ধরে এখানেই থিতু হওয়া সনাতন ধর্মাবলম্বীদের উৎসবের আগাম প্রস্তুতির ঘণ্টাই বাজিয়ে গেছে প্রতিনিয়ত। ক্ষণগণনা শেষে আজই যে তাদের দেওয়ালির রাত। kalerkanthoএই রাত ঘনিয়ে আসার আগেই বাংলাদেশ দলও জেনে যাবে যে তারা আরো অন্ধকারেই তলিয়ে যাবে নাকি ধ্বংসস্তূপ থেকে একটু হলেও মাথা তুলে দাঁড়াবে! হেড কোচ রাসেল ডমিঙ্গো থেকে শুরু করে স্পিন বোলিং উপদেষ্টা রঙ্গনা হেরাথরা যতই শেষ ম্যাচে ঘুরে দাঁড়ানোর আশাবাদ শোনান না কেন, আবুধাবিতে দক্ষিণ আফ্রিকা ম্যাচে বিধ্বস্ত দলের পক্ষে

বাজি ধরার লোক খুঁজে পাওয়াই মুশকিল। তার ওপর আজ দুপুরে দুবাই আন্তর্জাতিক ক্রিকেট স্টেডিয়ামে অস্ট্রেলিয়াও প্রতিপক্ষকে ছিঁড়েখুঁড়ে ফেলতে তৈরি। সেই প্রস্তুতিটা কিছুদিন আগে বাংলাদেশের ধীরগতির ও স্পিন সহায়ক নিচু বাউন্সের উইকেটে বিধ্বস্ত হয়ে আসার প্রতিশোধ নিতে অবশ্যই নয়। তিন ম্যাচের দুটিতে জিতেও এমন এক খাদের কিনারে অ্যারন ফিঞ্চের দল দাঁড়িয়ে যে এখান থেকে পরের দুই ম্যাচ জিতেও সেমিফাইনালের অঙ্ক জটিল হয়ে যেতে পারে। এমনকি গ্রুপ ওয়ান থেকে এরই মধ্যে চার ম্যাচের সব কয়টি জিতেও যেখানে ইংল্যান্ডের শেষ চার নিশ্চিত নয় এখনো, সেখানে প্রোটিয়াদের নিয়ে সেমিফাইনালে যাওয়ার ত্রিমুখী লড়াই-ই চলছে। লড়াইয়ে অস্ট্রেলিয়ার কিছুটা সুবিধা করে দিতে পারে ইংল্যান্ডও। ৬ নভেম্বর তারা প্রোটিয়াদের হারালে

এবং অস্ট্রেলিয়া পরের দুই ম্যাচই জিতলে দুই দলের জন্যই খুলে যাবে শেষ চারের দুয়ার। কিন্তু তা যদি না হয়? যদি দক্ষিণ আফ্রিকাই হারায় ইংল্যান্ডকে? সে ক্ষেত্রে অস্ট্রেলিয়া তাদের শেষ দুই ম্যাচ জিতলেও তিন দলের সমান ৮ পয়েন্ট হয়ে গেলে শ্রেয়তর রানরেটেই নির্ধারিত হবে দুই সেমিফাইনালিস্ট। তাই আজ শেষ দুইয়ের প্রথমটিতে বাংলাদেশকে দক্ষিণ আফ্রিকার মতো করেই দুমড়ে-মুচড়ে দিয়ে রানরেট বাড়িয়ে রাখতেও ভীষণ মরিয়া হয়ে থাকবে অস্ট্রেলিয়া। কাজেই মনোবল হারানো বাংলাদেশের সম্ভাবনার নিক্তি এক দিকেই বেশি ঝুলে পড়ছে আরো। এখন পর্যন্ত জয়হীন সুপার টুয়েলভ পর্বের শেষে এসে শুকনো মুখে শোনানো হেরাথের আশাবাদও দুই পাল্লাকে সমান-সমান করতে পারছে না কিছুতেই, ‘পেশাদার হিসেবে আমাদের প্রবলভাবে

ঘুরে দাঁড়ানো দরকার। আমাদের আর একটি ম্যাচই আছে। জয়ের মানসিকতা নিয়ে নেমেই জয়ের বিশ্বাস গড়ে তুলতে হবে। আগামীকাল অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে জেতার আরেকটি সুযোগ আছে আমাদের। ছেলেরাও নিশ্চয়ই নিজেদের পারফরম্যান্স কাটাছেঁড়া করে বুঝবে যে ওরা কী করেছিল আর কী করতে হবে। আশা করছি, ওরা ভালোভাবেই ঘুরে দাঁড়াবে।’ ঘুরে দাঁড়ানোর জন্য দুবাইয়ের উইকেটও বাংলাদেশের স্পিনারদের দিকে হাত বাড়িয়ে রাখবে বলে বিশ্বাস হেরাথের, ‘আমরা জানতাম যে বিশ্বকাপের উইকেটেও স্পিনারদের জন্য সহায়তা থাকবে। আগামীকাল দুবাইয়ের উইকেট থেকেও আমরা তা পাব বলে মনে হচ্ছে। তা ছাড়া এই আসরে স্পিনাররাও কিন্তু দারুণ করছে। যেমন রশিদ খান, আদিল রশিদ এবং ওয়ানিন্দু হাসারাঙ্গারা। আমাদের সাকিব, নাসুম ও মেহেদীরাও কিন্তু

ভালোই করেছে।’ দলের স্পিন সামর্থ্যের অনেকটা নিয়ে এরই মধ্যে বিশ্বকাপ থেকে ছিটকে পড়েছেন সাকিব। আর হেরাথ যে তিনজন ভিনদেশি সফল স্পিনারের কথা বললেন, এঁদের প্রত্যেকেই রিস্ট স্পিনার। নিজেদের না থাকলেও এ রকম স্পিনারের সামনে হিমশিম খাওয়ার টাটকা ঘটনা তো আবুধাবির দক্ষিণ আফ্রিকা ম্যাচেই। পেস সহায়ক উইকেটেও চায়নাম্যান তাবরাইজ শামসি অবলীলায় ভুগিয়ে গেছেন বাংলাদেশের ব্যাটারদের। অস্ট্রেলিয়ার লেগ স্পিনার অ্যাডাম জাম্পাও নিশ্চয়ই আজ একই লক্ষ্যে মুখিয়ে থাকবেন। অর্থাৎ শেষ ম্যাচেও যে লড়াই আগের মতোই কঠিন থাকছে মাহমুদ উল্লাহদের জন্য, সেটি অস্ট্রেলিয়ার বাঁহাতি স্পিনার অ্যাস্টন অ্যাগারও মনে করিয়ে দিলেন, ‘আমরা এখন অন্য দল (পুরো শক্তির দল বুঝিয়ে, বাংলাদেশ সফরে যাননি শীর্ষ ক্রিকেটারদের অনেকেই)। তা

ছাড়া এখানকার উইকেটও সেখানকার (ঢাকার মিরপুর শেরেবাংলা স্টেডিয়ামের মতো) মতো হবে না নিশ্চিতভাবেই।’ দেশের অনুকূল উইকেটে খেলে অবশ্য বেশ কিছু রেটিং পয়েন্ট বাড়িয়ে র্যাংকিংয়ের ছয়ে ওঠা গিয়েছিল। সুপার টুয়েলভে প্রথম তিন ম্যাচ হেরে আবার ৯-এ নেমে যাওয়া বাংলাদেশের সামনে তবু একটা প্রাপ্তির হাতছানি আছে। সেটি ২০২২ সালে অস্ট্রেলিয়ায় অনুষ্ঠেয় টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের মূল পর্বে সরাসরি খেলার সুযোগ। চলতি আসরের ফাইনালের দুই দল ও ফাইনালের পরদিনের র্যাংকিংয়ে (১৫ নভেম্বর) শীর্ষে থাকা সুপার টুয়েলভের ছয় দল সরাসরি খেলবে পরের আসরের মূল পর্বে। আজ জিতলে সেই সম্ভাবনা বেশি থাকবে বাংলাদেশেরও। সেই সঙ্গে মন্দের ভালো একটা কিছুও হবে। অন্তত একটি জয় নিয়ে দেশে ফেরা যাবে এবং কিছুটা

হলেও একাত্ম হওয়া যাবে দেওয়ালির রাতের ঝলমলে আলোর সঙ্গেও। প্রতিপক্ষ খাদের কিনারে দাঁড়ানো অস্ট্রেলিয়া বলে আবার ঘুটঘুটে অন্ধকারও চোখ রাঙিয়ে আছে!

দৈনিক ডোনেট বাংলাদেশ সংবিধান ও জনমতের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। তাই ধর্ম ও রাষ্ট্রবিরোধী এবং উষ্কানীমূলক কোনো বক্তব্য না করার জন্য পাঠকদের অনুরোধ করা হলো। কর্তৃপক্ষ যেকোনো ধরণের আপত্তিকর মন্তব্য মডারেশনের ক্ষমতা রাখেন।

ট্যাগ:

সংশ্লিষ্ট সংবাদ: